১৯৭৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ড। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক মাঠে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালটি ছিল ১৯৭৯ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত খেলা, যা ওষয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি সোনালী অধ্যায় রচনা করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন, এই টুর্নামেন্টে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবিয়ান দলটি তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং এবং বিধ্বংসী পেস আক্রমণের জন্য পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড, মাইক ব্রেয়ারলির নেতৃত্বে, ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল এবং তাদের লক্ষ্য ছিল প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা।
📈 Promote your Business
🕒 1st Month FREE + Lifetime Plan Available!
ফাইনালে টস জিতে ইংল্যান্ড প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি, দলীয় ৯৯ রানে তারা ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে, ভিভ রিচার্ডস এবং কলিস কিংয়ের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখায়। রিচার্ডস অপরাজিত ১৩৮ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন এবং কিং ৮৬ রানের ঝড়ো একটি ইনিংস খেলেন। তাদের এই জুটির কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ৬০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানের একটি শক্তিশালী স্কোর গড়ে তোলে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোরকার্ড: ২৮৬ রান/৯ উইকেট /৬০ ওভার
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালোই ছিল। ওপেনার মাইক ব্রেয়ারলি ৬৪ এবং জিওফ বয়কট ৫৭ রান করেন। তবে, তাদের ইনিংসের গতি কম থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। বিশেষ করে জোয়েল গার্নার ১১ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৫১ ওভারে ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে।
ইংল্যান্ড স্কোরকার্ড: ১৯৪ রান/১০ উইকেট/৫১ ওভার
এই জয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরপর দ্বিতীয়বারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
ভিভ রিচার্ডস তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে, যা তাদের সোনালী যুগের প্রতিচ্ছবি বহন করে।
Your comment will appear immediately after submission.