ক্রিকেট বিশ্বকাপ ১৯৮৭ সালের ফাইনাল

✅ Expert-Approved Content

১৯৮৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়। এই ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ৮ই নভেম্বর, রবিবার, ভারতের ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট স্টেডিয়াম কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। মুখোমুখি হয়েছিল দুটি শক্তিশালী দল – অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড। উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজিত হওয়ায় এই ম্যাচটি ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।

টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যালান Border প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের ইনিংসের শুরুটা বেশ সতর্ক ছিল। ওপেনার ডেভিড বুন ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেন এবং ১২৫ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭৫ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস উপহার দেন। মিডল অর্ডারে ডিন জোন্স ৩৩ রান করে দলের রান গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে ইনিংসের শেষদিকে মাইক ভেলেট্টা আগ্রাসী ব্যাটিং করেন এবং অপরাজিত ৪৫ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই বিস্ফোরক ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রানের একটি সম্মানজনক স্কোর এনে দেয়। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে এডি হেম্মিংস সবচেয়ে সফল ছিলেন, যিনি ২টি উইকেট লাভ করেন।

অস্ট্রেলিয়া স্কোরকার্ড: ২৫৩ রান/৫ উইকেট/৫০ ওভারে

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই করে। ওপেনার বিল অ্যাথে একটি অর্ধশতক (৫৮ রান) হাঁকান এবং অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং ৪১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। অ্যালান ল্যাম্বও ৪৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যালান Border এবং পেস বোলার স্টিভ ওয়া উভয়েই ২টি করে উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।

শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ১৭ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ঠান্ডা মাথার বোলিংয়ের সামনে তারা সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান তুলতে সক্ষম হয়।

ইংল্যান্ড স্কোরকার্ড: ২৪৬ রান/৮ উইকেট /৫০ ওভার

এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

ডেভিড বুন তার অসাধারণ এবং ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের জন্য “ম্যান অফ দ্য ম্যাচ” নির্বাচিত হন।

এই জয় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করে এবং পরবর্তীতে তারা আরও অনেক বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা লাভ করে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহাসিক জয় আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।

1 বছর সদস্য
ক্রিকেট আরিফ— ক্রিকেট নিউজ ও বিশ্লেষণমূলক লেখক আমি ক্রিকেট আরিফ, ক্রিকেট বিশ্লেষণ ও আপডেটের প্রতি গভীর আগ্রহী একজন লেখক। নাজিবুল ডট কমে আমি প্রতিদিনের ম্যাচ আপডেট, খেলোয়াড় বিশ্লেষণ, ক্রিকেটের গল্প ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করি।...

Your comment will appear immediately after submission.

মন্তব্য করুন