অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে(SCG) অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল ভারতীয় দলের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে পুরোনো দিনের ঝলক দেখালেন দুই তারকা ব্যাটসম্যান— রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। প্রথমে তরুণ পেসার হর্ষিত রানার ৪ উইকেটের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ২৩৬ রানে অলআউট করার পর, রোহিত ১২১* ও কোহলির ৭৪* রানের অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি ভারতকে ৯ উইকেটে বিশাল জয় এনে দেয়। যদিও অস্ট্রেলিয়া ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়, তবুও এই দাপুটে জয় হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচাল ভারতকে। ম্যাচের বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
প্রথম ইনিংস: হর্ষিত রানার বিধ্বংসী স্পেল, ২৩৬-এ অলআউট অস্ট্রেলিয়া
টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। মার্শ ৪১ এবং ট্র্যাভিস হেডের ২৯ ওপেনিং জুটি দ্রুত ৬১ রান তুলে একটি বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু মহম্মদ সিরাজ ট্র্যাভিস হেডকে ফেরানোর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ছন্দপতন শুরু হয়।
অধিনায়ক মার্শকে ৪১ রানে অক্ষর প্যাটেল বোল্ড করলে, দলের হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ৫৮ বলে ৫৬। তবে, ম্যাথু শর্ট ৩০ আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারে ধস নামে।
এই ধস নামান ভারতীয় দলের তরুণ পেসার হর্ষিত রানা, যিনি কোচ গৌতম গম্ভীরের আস্থার মর্যাদা দেন। হর্ষিত ৮.৪ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ওয়াশিংটন সুন্দর, যিনি ২টি উইকেট নেন। ফলস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া পুরো ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি এবং ৪৬.৪ ওভারে মাত্র ২৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।
- অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকার্ড: ২৩৬/১০/৪৬.৪ ওভার
দ্বিতীয় ইনিংস: রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি ও কোহলির হাফ-সেঞ্চুরি
২৩৭ রানের তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুভমন গিলকে ২৬ বলে ২৪ দ্রুত হারালেও, এরপরই শুরু হয় ‘রো-কো’ ম্যাজিক।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর এই ম্যাচে ফর্মে ফেরেন বিরাট কোহলি। অন্যদিকে, আগের ম্যাচের ছন্দ ধরে রেখে বিস্ফোরক ব্যাটিং শুরু করেন রোহিত শর্মা। এই দুই মহারথী দ্বিতীয় উইকেটে ১৬৮ রানের এক অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
রোহিত শর্মা ১২৫ বলে ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১২১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের ৩৩তম ওডিআই সেঞ্চুরি। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি ৮১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৭৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। এই জয়ের ফলে ভারত ৩৮.৩ ওভারেই মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ভারতের স্কোরকার্ড: ২৩৭/১ ৩৮.৩ ওভার
এই ম্যাচের সেরা ৫টি মুহূর্ত
১. হর্ষিত রানার ৪ উইকেট: প্রথম দুই ম্যাচে সমালোচিত হওয়ার পর, তরুণ ফাস্ট বোলার হর্ষিত রানা ৪/৩৯ ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ওয়ানডে বোলিং পারফরম্যান্স করেন।
২. শ্রেয়াস আইয়ারের দারুণ ক্যাচ: হর্ষিত রানার বলে অ্যালেক্স ক্যারির আউট করার জন্য শ্রেয়াস আইয়ার ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে একটি দৌড়ে একটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন, যা অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারে উইকেট পতনে সাহায্য করে।
৩. রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি: সিরিজের শুরুটা ভালো না হলেও, রোহিত শর্মা সিডনিতে ১২৫ বলে অপরাজিত ১২১ রানের শতরান করে তাঁর ‘ক্লাস’ প্রমাণ করেন এবং দলকে সহজ জয় এনে দেন।
৪. কোহলির রানে ফেরা ও রেকর্ড: টানা দুই ম্যাচে শূন্য করার পর এই ম্যাচে বিরাট কোহলি ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। একই সাথে তিনি একদিনের ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
৫. ১৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন ‘রো-কো’ জুটি: দুই অভিজ্ঞ তারকার মধ্যে এই ১৬৮ রানের পার্টনারশিপটি ভারতকে ১১.৩ ওভার বাকি থাকতে ৯ উইকেটে বিশাল জয় এনে দেয় এবং হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
এই ম্যাচের পর ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ফল কী দাঁড়াল?
ওডিআই ক্রিকেটে এই ম্যাচের মধ্যে ভারত টানা কতবার টস হারলো?
এই সিরিজের ‘প্লেয়ার অফ দা সিরিজ’ পুরস্কার কে পেয়েছেন?
এই সিরিজের সবচেয়ে বেশি উইকেট কে নিয়েছেন?
হর্ষিত রানা (মোট ৬ উইকেট)।
Your comment will appear immediately after submission.