Trending News Desk: বিহারের রাজধানী পাটনার বিখ্যাত শিক্ষক তথা জনপ্রিয় ইউটিউবার খান স্যারকে (Khan Sir) নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে ইউটিউব এবং ফেসবুকে একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে— “খান স্যারকে গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে গেছে পুলিশ!” এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী এবং অনুগামীদের মনে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ওই ভিডিওতে যা দেখানো হচ্ছে, তা কি আদেও সত্যি? খান স্যার কি সত্যিই এখন হাজতে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় রহস্য? আসুন জেনে নেওয়া যাক আজকের লেটেস্ট নিউজ এবং এই ঘটনার আসল সত্য।
আসল ঘটনাটি ঠিক কী? কেন খান স্যারের বিরুদ্ধে FIR?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন রাতে। পাটনার কদমতলা এলাকায় অবস্থিত খান স্যারের বিখ্যাত coaching institute ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ (KGS)-এ হঠাৎ করেই ১৫-২০ জন দুষ্কৃতী এসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওখানকার একজন নিরাপত্তা রক্ষীকেও মারধর করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিহার পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বী (Rival) কোচিং সেন্টারের ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার্থে খান স্যারের দুজন ব্যক্তিগত বডিগার্ড (নিরাপত্তা রক্ষী) তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে শূন্যে বা ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন।
বডিগার্ডদের একটি বয়ান এবং ফেঁসে গেলেন খান স্যার!
ঘটনার পর পাটনা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে খান স্যারের ওই দুই বডিগার্ডকে গ্রেফতার করে। কিন্তু টুইস্ট আসে তখনই, যখন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই দুই বডিগার্ড দাবি করেন যে— “খান স্যারের নির্দেশেই তারা শূন্যে গুলি চালিয়েছিলেন।”
এই জবানবন্দি পাওয়ার পরপরই পাটনা পুলিশ খান স্যার, তার দুই গার্ড এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা (Attempt to Murder) এবং আর্মস অ্যাক্টের অধীনে মামলা (FIR) দায়ের করে। এই ঘটনার জেরে পাটনার অন্য একটি নামী কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর রওশন আনন্দকেও পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।
তবে কি খান স্যার গ্রেফতার হয়েছেন? জানুন ভাইরাল ভিডিওর আসল সত্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওগুলো দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে পুলিশ খান স্যারকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, সেগুলি আসলে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং ভুয়ো (Fake News)।
আসল সত্য হলো: ১. খান স্যারকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করেনি এবং তিনি জেলেও যাননি। ২. ভাইরাল ভিডিওতে আসলে তার বডিগার্ডদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার দৃশ্য বা পুরনো কোনো জিজ্ঞাসাবাদের ক্লিপ ব্যবহার করে ভিউ পাওয়ার জন্য ভুল থাম্বনেইল দেওয়া হচ্ছে। ৩. পাটনা পুলিশের সিনিয়র এসপি (SSP) কার্তিকী শর্মা জানিয়েছেন, খান স্যারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে, তবে তার গ্রেফতারির খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এখন কী করতে চলেছেন খান স্যার?
খান স্যারের লিগ্যাল টিম বা আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই আইনি লড়াইয়ের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। খান স্যারের আইনজীবী অরবিন্দ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, খান স্যার আদালতে কোনো আত্মসমর্পণ (Surrender) করছেন না। আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবার (৮ জুন) পাটনা সিভিল কোর্টে খান স্যারের পক্ষ থেকে আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) আবেদন জমা দেওয়া হবে।
খান স্যার নিজেই ছাত্রদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, এটি আত্মরক্ষার্থে করা হয়েছিল এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর সমাধান হবে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার যেকোনো ভাইরাল ভিডিও দেখেই বিভ্রান্ত হবেন না। খান স্যার বর্তমানে জামিনের আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত আছেন। এই ঘটনার পরবর্তী সমস্ত লাইভ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের পেজে নজর রাখুন।
Your comment will appear immediately after submission.