ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে কীভাবে নতুন স্মার্ট ভোটার কার্ড অর্ডার করবেন (Step-by-Step Guide)

প্রকাশিত: লিখেছেন SK Telecom
✅ Expert-Approved Content

ভোটার কার্ড আমাদের দেশের নাগরিকদের অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য একটি পরিচয়পত্র। ভোটদান ছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কার্ড কেনা, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই কার্ডটি বাধ্যতামূলক।

কিন্তু কোনো কারণে যদি আপনার ভোটার কার্ডটি হারিয়ে যায়, চুরি হয় বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর সুব্যবস্থার ফলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে ডুপ্লিকেট বা নতুন স্মার্ট পিভিসি ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

এই গাইড ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকা সত্ত্বেও যে কেউ নিজে নিজে আবেদন করতে পারেন।


এক নজরে সমাধান (Quick Answer)

প্রশ্ন: ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কী করবেন?
উত্তর: ঘরে বসেই ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (NVSP) (voters.eci.gov.in) অথবা ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ-এর মাধ্যমে ফর্ম ৮ (Form 8) পূরণ করে খুব সহজেই নতুন স্মার্ট ভোটার কার্ডের আবেদন করা যায়। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোড করা যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিভিসি কার্ডটি ডাকযোগে বাড়িতে পৌঁছে যায়।


মুখ্য বিষয়সমূহ (Key Takeaways)

  • সঠিক ফর্ম নির্বাচন: ভোটার কার্ড হারানো, নষ্ট হওয়া বা প্রতিস্থাপনের জন্য সবসময় ফর্ম ৮ (Form 8) ব্যবহার করতে হবে।
  • জিডি (GD) এর নিয়ম: কার্ড সাধারণভাবেই হারিয়ে গেলে জিডি বাধ্যতামূলক নয়, তবে চুরি হলে স্থানীয় থানায় জেনারেল ডায়েরি (GD) করে তার কপি সংযুক্ত করতে হবে।
  • তাত্ক্ষণিক ই-ইপিক ডাউনলোড: আবেদন পাস হওয়ার সাথে সাথেই ডিজিটাল ফরম্যাটে বৈধ ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোড করা যায়।
  • মোবাইল অ্যাপের সুবিধা: কম্পিউটার ছাড়াও প্লে স্টোর থেকে Voter Helpline App ডাউনলোড করে মোবাইল থেকেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

নতুন ভোটার কার্ড অর্ডার করার আগে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?

আবেদন করতে গেলে সময়মতো কাজ শেষ করতে এবং কোনো ঝামেলা এড়াতে নিচের জিনিসগুলো আগে থেকেই হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন:

📄 প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট🎯 কেন লাগবে?📍 কোথায় পাবেন?
EPIC নম্বর (যদি মনে থাকে)আবেদনের সময় পরিচয় নিশ্চিত করতে ও প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করেপুরোনো ভোটার কার্ডে, ভোটার তালিকার কপিতে
আধার কার্ড (Aadhaar Card)পরিচয় ও ঠিকানা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিআপনার আধার কার্ড বা এর ডিজিটাল কপি
পাসপোর্ট সাইজের ছবিনতুন কার্ডে ব্যবহারের জন্য এবং অনলাইন ফর্মে আপলোড দিতেডিজিটাল ফরম্যাটে (JPG বা PNG) একটি সাম্প্রতিক ছবি
জিডি কপি (যদি কার্ড চুরি হয়ে থাকে)কার্ড চুরির প্রমাণ হিসেবে ফর্মের সাথে জমা দিতেস্থানীয় থানা থেকে প্রাপ্ত জেনারেল ডায়েরির কপি
সক্রিয় মোবাইল নম্বরআবেদনের সময় OTP ও স্ট্যাটাস আপডেট পাওয়ার জন্যআপনার বর্তমানে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর
ইমেইল আইডিআবেদনের রেফারেন্স ও নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্যআপনার নিয়মিত চেক করা ইমেইল অ্যাকাউন্ট

💡 পরামর্শ: আবেদন শুরু করার আগে আপনার আধার কার্ড ও পাসপোর্ট সাইজের ছবির একটি পরিষ্কার ডিজিটাল কপি আপনার মোবাইল ফোনে বা কম্পিউটারে সেভ করে রাখুন। এতে আবেদনের সময় বারবার খুঁজতে হবে না।


ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে প্রাথমিক করণীয় (GD & Info)

ভোটার কার্ড হারানোর খবর পেয়ে প্রথমেই ভয় পাবেন না। এটি একটি সাধারণ ঘটনা এবং এর সমাধান আছে। প্রথমে কিছু প্রাথমিক কাজ করলে পরবর্তী প্রক্রিয়াটি আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

🔍 প্রথমে যা করবেন:

১. শান্ত হোন ও ভালো করে খোঁজ করুন: সবচেয়ে আগে কাজ হলো নিজের আশেপাশে, মানিব্যাগ, ব্যাগ, গাড়ি বা অফিসের ড্রয়ারে ভালো করে খোঁজ করা। অনেক সময় কার্ড ঘরের কোনো কোণে বা অন্য কোনো জায়গায় পড়ে থাকে।

২. EPIC নম্বর মনে করার চেষ্টা করুন: আপনার ভোটার কার্ডের ১০ অঙ্কের EPIC নম্বরটি যদি মনে থাকে বা কোথাও লিখে রাখা থাকে, তাহলে আবেদন করার সময় এটি খুব কাজে দেবে। এই নম্বরটি ব্যবহার করে আপনার পুরোনো তথ্য পোর্টালে খুঁজে বের করা সহজ হয়।

৩. জেনারেল ডায়েরি (GD) করার সিদ্ধান্ত নিন:

  • যদি কার্ড চুরি হয়ে থাকে: তাহলে অবশ্যই আপনার এলাকার স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি জেনারেল ডায়েরি (GD) করুন। এই জিডি আপনার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে থাকবে যে আপনার কার্ডটি আপনার হাত থেকে চুরি গেছে। ফর্ম ৮ (Form 8) পূরণ করার সময় এই জিডির কপি আপলোড করতে হতে পারে।
  • যদি কার্ড নষ্ট হয়ে থাকে বা হারিয়ে যায় (চুরি নয়): এই ক্ষেত্রে জিডি করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনি চাইলে জিডি করে রাখতে পারেন, এটি মনের শান্তির জন্য এবং কোনো ভবিষ্যৎ সমস্যা এড়ানোর জন্য সহায়ক হতে পারে।

৪. নতুন আবেদনের জন্য প্রস্তুত হোন: কার্ড যে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিশ্চিত হয়ে অথবা জিডি করার পর পরবর্তী ধাপে চলে যান। এখন আপনি অনলাইনে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন শুরু করতে প্রস্তুত।


ধাপে ধাপে নতুন ভোটার কার্ড অর্ডার করার নিয়ম (Step-by-Step)

নিচের ধাপগুলো সাবধানে অনুসরণ করুন। আমি যতটা সম্ভব সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করছি, যাতে আপনার কোনো সমস্যা না হয়। আপনি চাইলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে, অথবা মোবাইল ফোন দিয়েও এই কাজ করতে পারেন।


📌 ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টাল বা অ্যাপে প্রবেশ করা

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে করতে চাইলে:
আপনার ব্রাউজার খুলে নিচের যেকোনো একটি ঠিকানায় যান:

মোবাইল ফোন দিয়ে করতে চাইলে:

  • আপনার ফোনের গুগল প্লে স্টোর (Android) অথবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর (iOS) খুলুন।
  • সার্চ বারে “Voter Helpline” টাইপ করে সার্চ দিন।
  • অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। এই অ্যাপটি বাংলা সহ ১২টি ভাষায় ব্যবহার করা যায়, যা আপনার জন্য খুব সুবিধাজনক হবে।

ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করা

  • পোর্টাল বা অ্যাপ খোলার পর আপনি যদি নতুন ব্যবহারকারী হন, তাহলে “Sign Up” বা “নিবন্ধন” অপশনে ক্লিক করুন।
  • আপনার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  • আপনার মোবাইল নম্বরে একটি OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসবে, সেটি দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন।
  • এরপর আপনার তৈরি করা ইউজার আইডি (মোবাইল নম্বর/ইমেইল) এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে লগইন করুন।

ধাপ ৩: ফর্ম ৮ (Form 8) নির্বাচন করা

  • লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে “Online Forms” অথবা “ভোটার পরিষেবা”-এর অপশন খুঁজুন।
  • সেখানে Form 8 নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, ভোটার কার্ড সংশোধন বা প্রতিস্থাপনের জন্য এই ফর্মটিই ব্যবহার করতে হয়। নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ (Form 6) ব্যবহার করা হয়, যা এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়।

ধাপ ৪: সঠিক কারণ নির্বাচন করা

ফর্ম ৮-এর একটি অংশে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কেন আপনি নতুন কার্ড চাচ্ছেন। সেখান থেকে আপনার কারণ অনুযায়ী সঠিক অপশনটি বেছে নিন:

অপশনবিস্তারিতকখন নির্বাচন করবেন
Issue of Replacement EPIC without correctionতথ্যে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই নতুন কার্ড চানকার্ডটি নষ্ট হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে, কিন্তু আপনার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সঠিক আছে
Issue of Replacement EPIC with correctionতথ্য সংশোধন করে নতুন কার্ড চানকার্ডে আপনার নামের বানান, ঠিকানা বা অন্য কোনো তথ্য ভুল আছে এবং সেটি শুধরে নতুন কার্ড নিতে চান
Lost / Stolen / Misplacedকার্ড হারানো, চুরি বা ভুল রাখার কারণকার্ড কীভাবে হারিয়েছেন, তার কারণ নির্বাচন করুন। চুরি হয়ে থাকলে আলাদা করে উল্লেখ করুন

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: আপনি যদি চুরি হওয়ার কারণ নির্বাচন করেন, তাহলে ফর্মের সাথে আপনার জিডি বা এফআইআরের কপি আপলোড করার অপশন আসবে। সেটি জমা দিতে ভুলবেন না।


ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ ও ডকুমেন্ট আপলোড করা

এখন ফর্মের বিভিন্ন ঘর পূরণ করতে হবে:

  • ব্যক্তিগত তথ্য: আপনার নাম, পিতার/স্বামীর নাম, জন্ম তারিখ সঠিকভাবে লিখুন।
  • ঠিকানা: আপনার বর্তমান ডাক ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে ইংরেজি বা বাংলা অক্ষরে পূরণ করুন।
  • EPIC নম্বর: আপনার পুরোনো কার্ডের EPIC নম্বর যদি মনে থাকে, তবে সেটি দিন। না থাকলে, আপনার নাম ও ঠিকানা দিয়ে সার্চ করে বের করে নিতে পারেন।
  • ডকুমেন্ট আপলোড করুন: ফর্মে যেখানে বলা হবে, সেখানে আপনার আধার কার্ড ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করুন। ফাইলটি JPG, PNG বা PDF ফরম্যাটের হতে পারে এবং সাইজ ২ এমবি-র বেশি না হলেই ভালো।

ধাপ ৬: আবেদন জমা দিন ও রেফারেন্স আইডি সংরক্ষণ করুন

  • সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে ডকুমেন্ট আপলোড করার পর “Submit” বা “জমা দিন” বাটনে ক্লিক করুন।
  • সফলভাবে জমা দেওয়ার পর একটি রেফারেন্স নম্বর (Reference ID) বা আবেদন নম্বর তৈরি হবে।
  • এই রেফারেন্স নম্বরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি পেন বা কলম দিয়ে লিখে রাখুন অথবা স্ক্রিনশট নিয়ে সংরক্ষণ করুন। এই নম্বর দিয়েই আপনি আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা (স্ট্যাটাস) জানতে পারবেন।

কীভাবে আবেদনের স্ট্যাটাস (Status) ট্র্যাক করবেন?

আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার নতুন ভোটার কার্ড তৈরি হচ্ছে কিনা, তা খুব সহজেই ট্র্যাক করতে পারবেন।

কম্পিউটার বা মোবাইল ব্রাউজার দিয়ে ট্র্যাকিং:

১. আবারও ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (NVSP) -এ লগইন করুন।
২. ড্যাশবোর্ডে “Track Application Status” বা “আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করুন” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. আবেদনের সময় পাওয়া রেফারেন্স নম্বরটি বসান।
৪. আপনার মোবাইল নম্বরে আসা OTP দিয়ে ভেরিফাই করুন।
৫. পর্দায় আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন—যেমন: পেন্ডিং (Pending), অনুমোদিত (Approved), অথবা ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে (Dispatched)।

ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ দিয়ে ট্র্যাকিং:

অ্যাপটি খুলে লগইন করে “Track Application” অপশনে গিয়ে একই রেফারেন্স নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন।


নতুন কার্ড হাতে পেতে কতদিন সময় লাগে এবং কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

আবেদন করার পর নতুন কার্ড হাতে পেতে কতদিন সময় লাগে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল থাকে। সাধারণত প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

ধাপসময় লাগে (প্রায়)
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়া১৫-২০ মিনিট
ডকুমেন্ট যাচাইকরণ (Verification)৫-১০ দিন
ই-ইপিক ডাউনলোড (ডিজিটাল ভোটার কার্ড)অনুমোদনের পরপরই
পিভিসি কার্ড সংগ্রহ বা হাতে পাওয়া১৫ দিন থেকে ১ মাস

কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

আপনার নতুন কার্ড পাওয়ার দুটি উপায় রয়েছে:

১. ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোড করুন (সবচেয়ে দ্রুত):

  • আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরে আপনি পোর্টাল থেকে একটি ই-ইপিক (ডিজিটাল ভোটার কার্ড) ডাউনলোড করতে পারবেন। এটি একটি পিডিএফ ফাইল, যা আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন এবং প্রিন্ট করেও ব্যবহার করতে পারেন।

২. পিভিসি কার্ড সংগ্রহ করুন:

  • নির্বাচন কমিশন আপনার অনলাইন আবেদনের ঠিকানায় একটি শারীরিক (হার্ড কপি) পিভিসি স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে পাঠিয়ে দেবে। সাধারণত ডুপ্লিকেট কার্ডের ক্ষেত্রে সরকারি ফি হিসেবে ₹২৫ টাকা ধার্য করা হয়, যা অনলাইনে বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে প্রদান করতে হয়। ডাক বিভাগ আপনার নিবন্ধিত ঠিকানায় কার্ডটি পৌঁছে দেবে।

ভোটার কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ (স্কোর ভিত্তিক বিশ্লেষণ)

নিচের চার্টটি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন ভোটার কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ার কোন ধাপটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

ভোটার কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ

চার্টটি কী বোঝাচ্ছে?

ধাপস্কোর (%)মানে কী?
ডকুমেন্ট প্রস্তুতি৮৫%সঠিক ডকুমেন্ট জোগাড় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — এগুলো ছাড়া আবেদনই করা যাবে না
অনলাইন ফর্ম পূরণ৭৫%তুলনামূলক সহজ, কিন্তু সতর্কতা দরকার — ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
ডকুমেন্ট যাচাইকরণ৯০%সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ — নথি ঠিক না থাকলে আবেদন অনুমোদিত হবে না
ই-ইপিক ডাউনলোড৯৫%সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ — অনুমোদনের পরপরই ডাউনলোড করা যায়
পিভিসি কার্ড ডেলিভারি৮০%সময়সাপেক্ষ, কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে — ডাকযোগে আসতে ১৫ দিন থেকে ১ মাস সময় লাগে

চার্ট থেকে পরামর্শ

  • ডকুমেন্ট যাচাইকরণে (৯০%) সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিন — কারণ এখানে কোনো ভুল হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
  • ই-ইপিক ডাউনলোড (৯৫%) সবচেয়ে সহজ — অনুমোদন পেলেই ডাউনলোড করে ফেলুন।
  • পিভিসি কার্ডের জন্য (৮০%) ধৈর্য ধরুন — ডাকযোগে আসতে সময় লাগে, কিন্তু চিন্তার কিছু নেই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে কি কার্ডের নম্বর বা EPIC নম্বর বদলে যায়?

না, কখনোই বদলায় না। আপনি যখন ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন করবেন, তখন আপনার পুরোনো কার্ডের যে EPIC নম্বরটি ছিল, নতুন কার্ডেও ঠিক একই নম্বর থাকবে। ভোটার নম্বর সারাজীবনের জন্য একটিই থাকে।

অনলাইনে ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?

হ্যাঁ, ন্যূনতম একটি ফি আছে।

মূল পয়েন্ট

• বুলেট
  • অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া: বিনামূল্যে করা যায়।
  • ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোড: এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
  • শারীরিক পিভিসি কার্ড (Replacement EPIC): সাধারণত সরকারি ফি হিসেবে ₹২৫ টাকা দিতে হয়।

জিডি করা কি বাধ্যতামূলক?

শুধুমাত্র কার্ড চুরি হয়ে গেলে জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মূল পয়েন্ট

• বুলেট
  • কার্ড চুরি হয়ে গেলে জিডি (General Diary) করে ফর্ম ৮ (Form 8)-এর সাথে তার কপি আপলোড করা ভালো।
  • কার্ড শুধু হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে জিডি করার প্রয়োজন নেই।

মোবাইল থেকে কি আবেদন করা সম্ভব?

হ্যাঁ, খুব সহজেই। আপনি গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে “Voter Helpline App” ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি মোবাইল থেকেই সম্পন্ন করতে পারেন।

উপসংহার (Conclusion)

ভোটার কার্ড হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া আজকাল একটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই, নির্বাচন কমিশন এই সমস্যার সমাধানকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। আপনি শুধু একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে ঘরে বসেই নতুন ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

আশা করি, এই ধাপে ধাপে নির্দেশিকা আপনার কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে। এখন আর দেরি না করে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো হাতে নিয়ে অফিসিয়াল পোর্টালে লগইন করুন এবং আপনার নতুন স্মার্ট ভোটার কার্ডের আবেদন করে ফেলুন। আর কোনো প্রশ্ন থাকলে, নির্দ্বিধায় নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আজই আপনার আবেদনটি সম্পন্ন করুন এবং নিশ্চিন্ত থাকুন!

4 দিন সদস্য
এসকে টেলিকম (SK Telecom) অনলাইন ফর্ম ফিলাপ, সিএসসি (CSC) পরিষেবা এবং সরকারি স্কিমগুলোতে ১১ বছরেরও বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ভেরিফায়েড এক্সপার্ট। সাইবার ক্যাফে ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ১০০% নির্ভুল ও ধাপে ধাপে প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন প্রদান...

Your comment will appear immediately after submission.

মন্তব্য করুন