ভোটার কার্ড নিয়ে যত প্রশ্ন ও সমাধান: হারিয়ে গেলে কী করবেন, ফি কত এবং অন্যান্য জরুরি তথ্য

প্রকাশিত: লিখেছেন SK Telecom
✅ Expert-Approved Content

ভোটার কার্ড আমাদের দেশের নাগরিকদের অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র। কিন্তু এর সাথে সম্পর্কিত নানা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। এই আর্টিকেলে ভোটার কার্ড, ডুপ্লিকেট কার্ড প্রক্রিয়া, EPIC নম্বর, ফি ইত্যাদি নিয়ে কিছু সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।

ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে কি পুরোনো EPIC নম্বর বা ভোটার নম্বর বদলে যায়?

না, কখনোই বদলায় না। আপনি যখন ডুপ্লিকেট বা নতুন স্মার্ট ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেন, তখন নির্বাচন কমিশন আপনার জন্য নতুন কোনো EPIC নম্বর তৈরি করে না। আপনার পুরোনো কার্ডের যে নম্বরটি ছিল, নতুন কার্ডেও ঠিক সেই নম্বরটিই থাকে।

অনলাইনে ডুপ্লিকেট স্মার্ট ভোটার কার্ড অর্ডার করার জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?

হ্যাঁ, তবে আবেদন প্রক্রিয়া বিনামূল্যে। অনলাইন আবেদন বা ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোডের জন্য কোনো টাকা লাগে না। তবে ডাকযোগে শারীরিক পিভিসি (PVC) স্মার্ট কার্ড পেতে চাইলে ন্যূনতম ₹২৫-₹৩০ টাকা ফি দিতে হয়।

কার্ড সাধারণভাবেই হারিয়ে গেলে কি থানায় জিডি করা বাধ্যতামূলক?

না, সাধারণত বাধ্যতামূলক নয়।

  • যদি কার্ড শুধু হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যায়: জিডি করার প্রয়োজন নেই, সরাসরি অনলাইনে ফর্ম ৮ (Form 8) দিয়ে আবেদন করা যায়।
  • যদি কার্ড চুরি হয়ে যায়: সে ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় জেনারেল ডায়েরি (GD) বা এফআইআর করা অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য এবং ফর্মের সাথে তার কপি দিতে হয়।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কি খুব সহজেই এই আবেদন করা সম্ভব?

হ্যাঁ, অবশ্যই। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে “Voter Helpline App” ডাউনলোড করে মোবাইল থেকেই বাংলা ভাষায় সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

ভোটার কার্ডের ডুপ্লিকেট আবেদন করার পর কতদিনের মধ্যে নতুন কার্ড হাতে পাব?

সাধারণত আবেদন করার ১৫ দিন থেকে ১ মাসের মধ্যে পিভিসি কার্ড হাতে পাওয়া যায়। তবে আবেদন অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথেই ডিজিটাল ই-ইপিক (e-EPIC) ডাউনলোড করা যায়।

ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কিন্তু কার্ড না থাকলে কী করবেন?

ভোটার কার্ড হাতে না থাকলেও ভোটার তালিকায় নাম থাকলে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের যেকোনো একটি দেখিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ভোটার কার্ড অনলাইনে আবেদন করতে কত সময় লাগে?

অনলাইনে ফর্ম ৮ (Form ৮) পূরণ করে আবেদন জমা দিতে মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। এরপর ডকুমেন্ট যাচাইকরণে ৫-১০ দিন এবং কার্ড ডেলিভারি পেতে ১৫ দিন থেকে ১ মাস সময় লাগতে পারে।

ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে কি ভোট দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, আপনি ভোট দিতে পারেন। ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকলে এবং ভোটার কার্ড না থাকলে নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্র (আধার, প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি) দেখিয়ে ভোট দিতে পারবেন।

ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ডের আবেদন কি অফলাইনে করা যায়?

হ্যাঁ, করা যায়। আপনি আপনার এলাকার নির্বাচন অফিস বা বিএলও (BLO)-এর কাছে গিয়ে ফর্ম ৮ (Form ৮) জমা দিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে অনলাইন প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও দ্রুততর।

ভোটার কার্ডের ডুপ্লিকেট আবেদন করার পর পুরনো কার্ড পাওয়া গেলে কী করবেন?

আপনি যদি আবেদন করার পর পুরনো কার্ড খুঁজে পান, তাহলে সেটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশন বা বিএলও-কে জমা দিতে হবে। কারণ, একজন ব্যক্তির কাছে একাধিক ভোটার কার্ড থাকা আইনত সঠিক নয়।

ভোটার কার্ডের ছবি বা তথ্য ভুল থাকলে কী করবেন?

যদি ভোটার কার্ডে আপনার নামের বানান, ঠিকানা বা ছবি ভুল থাকে, তাহলে আপনি ফর্ম ৮ (Form ৮)-এর মাধ্যমে সংশোধন সহ নতুন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। ফর্মে “Issue of Replacement EPIC with correction” অপশনটি নির্বাচন করবেন।

বিদেশে থাকাকালীন ভোটার কার্ডের আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ, ভারতের বাইরে অবস্থান করলেও আপনি অনলাইনে NVSP পোর্টাল বা Voter Helpline অ্যাপ ব্যবহার করে আবেদন করতে পারেন। তবে শারীরিক পিভিসি কার্ড পেতে হলে ভারতের কোনো ঠিকানা প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন: ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (NVSP)

4 দিন সদস্য
এসকে টেলিকম (SK Telecom) অনলাইন ফর্ম ফিলাপ, সিএসসি (CSC) পরিষেবা এবং সরকারি স্কিমগুলোতে ১১ বছরেরও বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ভেরিফায়েড এক্সপার্ট। সাইবার ক্যাফে ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ১০০% নির্ভুল ও ধাপে ধাপে প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন প্রদান...

Your comment will appear immediately after submission.

মন্তব্য করুন