বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
অর্থ: আল্লাহর নামে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল: মাক্কাহ
আয়াত: ৯২ টি
বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো আসলে কী?
১৯ নম্বর সূরা, ১ নম্বর আয়াত: কাফ হা ইয়া আইন স্বাদ [১৫ নম্বর সূরা, ১ নম্বর আয়াত; ৩১ নম্বর সূরা, ১-২ নম্বর আয়াত]
যাকারিয়া (আ.)-এর প্রার্থনা ও বর্ণনা
১৯ নম্বর সূরা, ২ নম্বর আয়াত: (এটা ঐ) রহমত/অনুগ্রহের বিবরণ, যা আপনার প্রতিপালক তার বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন।
১৯ নম্বর সূরা, ৩ নম্বর আয়াত: যখন তিনি তার প্রতিপালককে গোপনে ডেকেছিলেন।
বয়স্ক মানুষদের শ্বেত রক্তকণিকা কমে যায়
১৯ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত: বলেছিলেন- “হে আমার প্রভু, আমার অস্থিমজ্জার উৎপাদন (শ্বেত রক্তকণিকা) কমে গেছে (১)। আর বয়সের জন্য উজ্জ্বল হয়েছে মাথা (মাথার চুল)। হে আমার প্রতিপালক, আপনাকে ডেকে কখনও ব্যর্থ হইনি” [৩ নম্বর সূরা, ৩৮ নম্বর আয়াত; ১৯ নম্বর সূরা, ৪৮ নম্বর আয়াত; ১৪ নম্বর সূরা, ৩৯-৪০ নম্বর আয়াত]
(১) শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার অর্থ হলো- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। এই রক্তকণিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করে। এ কারণে আমরা রোগকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠি, আর এই কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জাতে।
যাকারিয়া (আ.) কেন ভয় পাচ্ছিলেন?
১৯ নম্বর সূরা, ৫ নম্বর আয়াত: নিশ্চয়ই আমি আমার পর স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে ভয় পাচ্ছি। কেননা, আমার স্ত্রী বন্ধ্যা (তাদের পথ দেখাবে কে?)। এ জন্য আপনি আপনার থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী [২১ নম্বর সূরা, ৮৯ নম্বর আয়াত] প্রদান করুন।
১৯ নম্বর সূরা, ৬ নম্বর আয়াত: যে আমার ওয়ারিশ হবে এবং ইয়াকূব বংশের (১) ওয়ারিশ হবে [৩ নম্বর সূরা, ৩৮ নম্বর আয়াত]। হে আমার প্রতিপালক, তাকে আপনার সন্তুষ্টির পাত্র বানিয়ে দেবেন।
(১) ইয়াকূব বংশের বলতে? আসলে ইয়াকূব (আ.)-এর আরেক নাম হলো- ইসরঈল (আ.)। আর তার নামেই তার বংশধরদেরকে ‘বানী ইসরাঈল’ বলা হয়। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে ৩৭ নম্বর সূরা, ৭৭ নম্বর আয়াতে।
যাকারিয়া (আ.) পুত্রের সুসংবাদ পেলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৭ নম্বর আয়াত: (এই পেক্ষিতে তাকে ফেরেশতারা বললেন) “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি [৩ নম্বর সূরা, ৩৯ নম্বর আয়াত; ২১ নম্বর সূরা, ৯০ নম্বর আয়াত]। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। তার পূর্বে তার সমতুল্য অন্য কেউ ছিল না।”
অতি বয়স্ক জনিত কারণে হাড় শুকিয়ে যায়
১৯ নম্বর সূরা, ৮ নম্বর আয়াত: বললেন- “কিভাবে আমার পুত্র হবে, আমার স্ত্রী তো যৌবনকাল থেকেই বন্ধ্যা (১)? আর অবশ্যই অতি বয়স্ক হওয়ার জন্য আমার কাঠ (অস্থি/হাড়) শুকিয়ে গেছে/যাচ্ছে।”
(১) এখানে পুত্রের সুসংবাদ পেয়ে যাকারিয়া (আ.) যে ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন, এই ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন ইবরাহীম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী। এটা রয়েছে ৫১ নম্বর সূরা, ২৯ নম্বর আয়াতে।
হাড় শুকিয়ে যায়? হ্যাঁ, শুকিয়ে যায়। প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে নতুন হাড় তৈরি হয়, পুরাতন হাড়ের জায়গা নেয়। প্রতি ১০ বছর ছাড়া পুরাতন হাড় পুরোপুরি নতুন হয়ে যায়। এটা খুবই ধীর গতির প্রক্রিয়া। বয়সের কারণে নতুন হাড় তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, পুরাতন হাড় শুকিয়ে যায়। এখানে যাকারিয়া (আ.) সেটাই বলছেন।
ফেরেশতাদের জবাব
১৯ নম্বর সূরা, ৯ নম্বর আয়াত: (ফেরেশতারা) বললেন- “এভাবেই হবে [১৯ নম্বর সূরা, ২১ নম্বর আয়াত; ৩ নম্বর সূরা, ৪০ নম্বর আয়াত; ৫১ নম্বর সূরা, ৩০ নম্বর আয়াত]। আপনার প্রতিপালক বলেছেন- “তা আমার জন্য সহজ” [৬৪ নম্বর সূরা, ৭ নম্বর আয়াত]। নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি, যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছুই ছিলেন না” [৭৬ নম্বর সূরা, ১ নম্বর আয়াত]।
যাকারিয়া (আ.) নিদর্শন চাইলেন, আল্লাহ নিদর্শন দিলেন
১৯ নম্বর সূরা, ১০ নম্বর আয়াত: বললেন- “হে আমার প্রভু, আমাকে একটি নিদর্শন দিন”। বললেন- “আপনার নিদর্শন এই যে, আপনি সুস্থ থেকেও ‘তিন’ দিন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না” [৩ নম্বর সূরা, ৪১ নম্বর আয়াত]।
ফেরেশতারা যা বলছিলেন, তা হয়ত পরিস্থিতি দেখে যাকারিয়া (আ.) বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তাই তিনি নিদর্শন চেয়েছিলেন। তার নিদর্শন এটা ছিল যে, আল্লাহ তার বাকশক্তি কেড়ে নিয়েছিলেন ৩ দিনের জন্য।
যাকারিয়া (আ.) ছিলেন মসজিদের ইমাম
১৯ নম্বর সূরা, ১১ নম্বর আয়াত: অতঃপর তিনি মিহরাব থেকে বের হয়ে তার জাতির সামনে এলেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় (নামাজে তার) পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকবে (১)।
(১) কেননা আমি তো বোবা হয়ে গেছি, নামাজ পড়াতে পারব না, তিলাওয়াত করতে পারব না।
আর এখানে যাকারিয়া (আ.)-এর প্রসঙ্গ শেষ, তার পুত্র ইয়াহইয়া (আ.)-এর বর্ণনা/কাহিনী শুরু হচ্ছে।
শিশু থেকে বিজ্ঞানের জ্ঞান, ইয়াহইয়া (আ.)-এর মুজিজা
১৯ নম্বর সূরা, ১২ নম্বর আয়াত: হে ইয়াহইয়া, দৃঢ়ভাবে কিতাব ধারণ করুন। আর তাকে আমরা শিশু/বাল্যকালেই বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রদান করেছিলাম।
ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন ‘পবিত্র’
১৯ নম্বর সূরা, ১৩ নম্বর আয়াত: এবং আমাদের নিকটে তার প্রতি ছিল স্নেহ-ভালোবাসা, তাকে করেছিলাম ‘পবিত্র’। আর তিনি ছিলেন তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী।
ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন মাতাপিতার প্রতি দায়িত্ববান
১৯ নম্বর সূরা, ১৪ নম্বর আয়াত: তিনি ছিলেন মাতাপিতার প্রতি দায়িত্ববান। তিনি ‘কঠোর/রূঢ় ও অবাধ্য’ ছিলেন না।
ইয়াহইয়া (আ.)-এর প্রতি ‘বিশেষ ধরণের সালাম’
১৯ নম্বর সূরা, ১৫ নম্বর আয়াত: তার প্রতি সালাম, যেদিন তিনি জন্মেছিলেন এবং যেদিন তিনি মরবেন ও যেদিন তাকে জীবিত করে উঠানো হবে [১৯ নম্বর সূরা, ৩৩ নম্বর আয়াত]।
মসজিদে মারইয়াম (আ.)-এর ইতিকাফ
১৯ নম্বর সূরা, ১৬ নম্বর আয়াত: আর কিতাবে মারইয়ামের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। যখন তিনি পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন তার পরিবার হতে। স্থান নিলেন (বাইতুল মুকাদ্দাসের) পূর্বদিকে (১)।
(১) মারইয়াম (আ.) ইতিকাফ করেছিলেন। বিস্তারিত তথ্য ২ নম্বর সূরা, ১৮৭ নম্বর আয়াতে রয়েছে। যাইহোক, তবে এই আয়াত এটা প্রমাণ করে যে, নারীরা মসজিদে ইতিকাফ করতে পারবে। যদিও তাদের এই অধিকার আমরা ‘হরণ’ করেছি। এর হিসাব একদিন দিতে হবে!
ফেরেশতা/ফেরেশতারা মানুষের আকৃতি নিতে পারে
১৯ নম্বর সূরা, ১৭ নম্বর আয়াত: অতঃপর তিনি পর্দার আড়ালে স্থান গ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে (পরিবার-পরিজনকে) ছেড়ে। অতঃপর আমরা তার কাছে আমাদের রূহ (জিবরীল)কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর তিনি তার কাছে পূর্ণ ‘মানুষ রূপে’ প্রকাশিত হল।
অনেকে বলেন- এখানে পরস্পর বিরোধী তথ্য রয়েছে। কেননা, এখানে বলা হয়েছে যে, জিবরীল (আ.) একা এসেছিলেন এবং ৩ নম্বর সূরা, ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, ফেরেশতারা এসেছিলেন। সুতরাং কুরআন মানবরচিত (৪ নম্বর সূরা, ৮২ নম্বর আয়াত)। ভাই আসলে- এখানে বলা হয়নি যে, জিবরীল (আ.) একা এসেছিলেন। বলা হচ্ছে- আমাদের রূহকে প্রেরণ করলাম। বলা হয়নি যে, তার সঙ্গে অন্য ফেরেশতারা ছিল না। ৩ নম্বর সূরা, ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, তিনি একা নন, তার সঙ্গে অন্য ফেরেশতারাও ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- নাম শুধু নেতারই নাম উল্লেখ করা হয়। যেমন ধরুন, রাহুল গান্ধী আজ লোকসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন করতে গিয়েছিলেন। লক্ষণীয় বিষয়- তিনি একা যাননি। তবে খবরের হেডলাইন হয়- “রাহুল গান্ধী আজ লোকসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন করতে গিয়েছিলেন”
জিবরীল (আ.)-কে দেখে মারইয়াম (আ.) যা বললেন
১৯ নম্বর সূরা, ১৮ নম্বর আয়াত: (মারইয়াম) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি আপনার থেকে আশ্রয় চাইছি রহমান/দয়াময়ের কাছে। যদি আপনি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী হয়ে থাকেন।”
ঈশা (আ.) ছিলেন ‘পবিত্র’
১৯ নম্বর সূরা, ১৯ নম্বর আয়াত: (জিবরীল) বললেন- “প্রকৃত পক্ষে আমি আপনার প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল/দূত। যেন আপনাকে প্রদান করি এক ‘পবিত্র’ পুত্র।”
অনেকে বলেন- এখানে ঈশা (আ.)-কে ‘পবিত্র’ বলা হয়েছে। আর কুরআনে আল্লাহকেও ‘পবিত্র’ (১৬ নম্বর সূরা, ১ নম্বর আয়াত) বলা হয়েছে। সুতরাং যিশুই আল্লাহ/ঈশ্বর। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো ১৯ নম্বর সূরা, ১৩ নম্বর আয়াতে ইয়াহইয়া (আ.)-কেও ‘পবিত্র’ বলা হয়েছে। এখন কী হবে?
জিবরীল (আ.)-কে মারইয়াম (আ.)-এর প্রশ্ন
১৯ নম্বর সূরা, ২০ নম্বর আয়াত: (মারইয়াম) বললেন- “কিভাবে আমার পুত্র হবে, যখন কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি? আর আমি কোনো ব্যাভিচারীনিও নই।”
জিবরীল (আ.)-এর উত্তর — ঈশা (আ.) হলেন ‘নিদর্শন’
১৯ নম্বর সূরা, ২১ নম্বর আয়াত: (জিবরীল) বললেন- “এভাবেই হবে [৩ নম্বর সূরা, ৪০ নম্বর আয়াত; ৫১ নম্বর সূরা, ৩০ নম্বর আয়াত]। আপনার প্রতিপালক বলেছেন- “তা আমার জন্য সহজ” [১৯ নম্বর সূরা, ৮ নম্বর আয়াত; ৬৪ নম্বর সূরা, ৭ নম্বর আয়াত]। এবং যেন আমরা তাকে মানবজাতির জন্য নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ থেকে রহমত হিসেবে পেশ করি। আর এটা (আল্লাহর) সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত, এতে সন্তুষ্ট থাকুন।”
পিতা ও শুক্রাণু ছাড়া ঈশা (আ.)-কে গর্ভে ধারণ
১৯ নম্বর সূরা, ২২ নম্বর আয়াত: অতঃপর তাকে (ঈশাকে) তিনি গর্ভে ধারণ করলেন [২১ নম্বর সূরা, ৯১ নম্বর আয়াত; ৬৬ নম্বর সূরা, ১২ নম্বর আয়াত]। এবং তা (গর্ভ)সহ তিনি চলে গেলেন দূরবর্তী কোনো স্থানে।
উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে মারইয়াম (আ.)-এর প্রসঙ্গে যে ধরণের বক্তব্য রয়েছে, তা বাইবেলেও রয়েছে Luke-এর প্রথম অধ্যায়ের ২৬ থেকে ৩৮ নং Verse-এ।
মারইয়াম (আ.)-এর দুশ্চিন্তা ও আফসোস
১৯ নম্বর সূরা, ২৩ নম্বর আয়াত: অতঃপর প্রসব বেদনা তাকে নিয়ে এল খেজুর গাছের কাছে। বললেন- “হায়, যদি আমি এর পূর্বে মারা যেতাম এবং আমি (মানুষের) স্মৃতি হতে বিলুপ্ত (১) হতাম!!”
(১) মারইয়াম (আ.) মৃত্যু কামনা করছেন না। এই ঘটনার জন্য মানুষজন যে বদনাম করবে, তা ভেবেই তিনি একথা বলছেন।
জিবরীল (আ.) মারইয়াম (আ.)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেন
১৯ নম্বর সূরা, ২৪ নম্বর আয়াত: অতঃপর তিনি (জিবরীল) তাকে তার (গাছের) নিচ হতে ডেকে বললেন- “দুঃখ/চিন্তা করবেন না। অবশ্যই আপনার প্রতিপালক আপনার পায়ের নিচে অস্তিত্বে এনেছেন একটি ছোট জলধারা।”
১৯ নম্বর সূরা, ২৫ নম্বর আয়াত: আর আপনি খেজুর গাছের কাণ্ডটা একটু নাড়া দিন, তাহলে আপনার উপর ঝরে পড়বে তাজা খেজুর।
মারইয়াম (আ.)-কে কারোর সঙ্গে ‘কথা না বলার’ নির্দেশ
১৯ নম্বর সূরা, ২৬ নম্বর আয়াত: অতঃপর খান, পান করুন ও চোখ শীতল করুন। অতঃপর যদি কোনো মানুষ দেখেন, (যে আপনার সঙ্গে এই শিশু/ঈশা সম্পর্কে কথা বলতে চায়) তাকে ইঙ্গিতে বলুন- “আমি রহমান/দয়াময়ের জন্য মানত করেছি যা, আজ আমি কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলব না, বরং সাওম/বিরত থাকব।”
ইহুদীরা মারইয়াম (আ.)-এর প্রতি অপবাদ দিল
১৯ নম্বর সূরা, ২৭ নম্বর আয়াত: অতঃপর যখন তিনি তাকে (ঈশাকে কোলে) বহন করে তার জাতির কাছে আসলেন, তারা বলল- “হে মরইয়াম, তোমার মধ্য থেকে প্রকাশ পেয়েছে নোংরা ও জঘন্য বিষয়।”
১৯ নম্বর সূরা, ২৮ নম্বর আয়াত: হে হারূনের বোন, না তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল, আর না তোমার মা ব্যাভিচারিণী ছিল” (তাহলে তুমি এমন কাজ [৪ নম্বর সূরা, ৫৬ নম্বর আয়াত] কিভাবে করলে)?”
অনেকেই বলেন যে, এখানে তথ্যগত ভুল রয়েছে। মারইয়াম (আ.) ও হারূন (আ.)-এর মধ্যে অনেক লম্বা সময়ের গ্যাপ রয়েছে। তাই মারইয়াম (আ.) কিভাবে হারুন (আ.)-এর বোন হতে পারে? উত্তর কঠিন নয়। মনে রাখা উচিত যে, কুরআন বাংলায় নাযিল হয়নি। নাযিল হয়েছে আরবিতে (১২ নম্বর সূরা, ২ নম্বর আয়াত)। তাই তার মধ্যে আরবি বচন রীতির ব্যবহার হয়েছে। কুরআনের ২২ নম্বর সূরা, ৭৮ নম্বর আয়াতে ইবরাহীম (আ.) আমাদের পিতা বলা হয়েছে। এটা আপনার কাছে তথ্যগত ভুল মনে হচ্ছে না কেন? তিনি তো আমাদের পিতা নন। এটা আরবি রীতি। যাদের বাড়িঘর নেই, যাদের ঠিকানা রাস্তা, তাদেরকে কুরআনে “রাস্তার পুত্র” বলা হয়েছে। এটা ভুল মনে হচ্ছে না কেন? রাস্তার কি পুত্র হয়?
এগুলো আরবি বচন রীতি। আবদুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দৌসি বেড়ালকে খুবই ভালোবাসতেন এবং সর্বদা বেড়াল নিয়ে ঘুরতেন, এ জন্য নবী (সা.) ‘আবু হুরায়রা’ বলে ডাকতেন। যার অর্থ বেড়ালের পিতা। শুধুমাত্র আরবিতে নয়, এই বচন রীতি আরবি থেকে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই গান্ধীজিকে জাতির পিতা বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা বলা হয়, মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহকে জাতির পিতা বলা হয়। এগুলো তথ্যগত ভুল মনে হচ্ছে না কেন? আমরা কি তাদের সন্তান?
ভাই, মস্তিষ্কের ব্যবহার করুন (৮ নম্বর সূরা, ২২ নম্বর আয়াত; ১০ নম্বর সূরা, ১০০ নম্বর আয়াত)। প্রশ্ন হবে- মারইয়াম (আ.) তো আরবের ছিলেন না! হ্যাঁ, তিনি তৎকালীন সিরিয়ার ছিলেন, বর্তমানের ফিলিস্তিনের ছিলেন। তিনি হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন। আর হিব্রু ভাষা আরবির গোত্রীয় ভাষা। ঠিক বললাম কি? এজন্যই তারা মারইয়াম (আ.)-এর ক্ষেত্রে তাদের রীতিনীতির জনক হিসেবে হারূন (আ.)-এর নাম ব্যবহার করেছেন যে, “হে হারূনের বোন”…। প্রশ্ন হবে- তারা হারূনের কন্যা বললেন না কেন? উত্তরটা সহজ, এর পরক্ষণেই মারইয়াম (আ.)-এর আসল পিতা-মাতা সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। তাই এখানে তাকে হারূনের কন্যা না বলে, হারূনের বোন বলা হয়েছে। নবী (সা.)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন- “তারা (বানী ইসরাঈল) নবী ও পুণ্যবান মানুষদের সঙ্গে নাম জুড়ে পরিচয় দিতেন” (মুসলিম, হাদীশ ২১৩৫)।
মারইয়াম (আ.) ঈশা (আ.)-এর সঙ্গে কথা বলতে বললেন
১৯ নম্বর সূরা, ২৯ নম্বর আয়াত: তখন তিনি তার (শিশু ঈশার) সঙ্গে (কথা বলার) ইঙ্গিত করল। তারা বলল- “আমরা কিভাবে তার সঙ্গে কথা বলব, যে এখন কোলের ছোট্ট শিশু?”
শিশু ঈশা (আ.) কথা বলা শুরু করলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৩০ নম্বর আয়াত: (শিশু ঈশা) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দেবেন ও নবী বানাবেন।”
১৯ নম্বর সূরা, ৩১ নম্বর আয়াত: আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে কল্যাণকর বানিয়েছেন। যতদিন আমি জীবিত থাকি, ততদিন তিনি আমাকে সালাত/আল্লাহর বিধান মেনে চলার ও যাকাত/বিশুদ্ধতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঈশা (আ.) মায়ের প্রতি দায়িত্ববান ছিলেন, কঠোর-রূঢ় নন
১৯ নম্বর সূরা, ৩২ নম্বর আয়াত: এবং আমাকে মায়ের (১) প্রতি দায়িত্ববান বানিয়েছেন। আর আমাকে (মায়ের প্রতি) কঠোর ও লাগামহীন বানাননি (২)।
(১) অনেকেই বলেন- ঈশা (আ.)-এরও পিতা ছিল। অথচ এই আয়াত সুস্পষ্টভাবে বলছে- তিনি শুধুমাত্র তার মায়ের প্রতি দায়িত্ববান। যদি ঈশা (আ.)-এর পিতা থাকত, তাহলে তিনি ১৯ নম্বর সূরা, ১৫ নম্বর আয়াতের মতো ‘মাতাপিতা’ বলতে পারতেন।
(২) “আমাকে কঠোর ও লাগামহীন বানাননি”- এই অংশটি কেন উল্লেখ করা হলো? কারণ, বাইবেলে ঈশা (আ.) তার মাকে ‘মা’ বলেননি। তিনি মাকে বলছেন- “হে নারী” (John, ২:৪ ও ১৯:২৬)। এ জন্য আল্লাহ এই অংশটি তুলে ধরেছেন। আর এটা বোঝাতে চাইছেন- “বাইবেল বিকৃত”। কেননা, কোনো সুযোগ্য পুত্র কখনও মাকে ‘মা’ না বলে, ‘হে নারী’ বলবেন না।
ঈশা (আ.)-এর প্রতি বিশেষ ধরণের ‘সালাম’
১৯ নম্বর সূরা, ৩৩ নম্বর আয়াত: আর (আল্লাহ বলেছেন) আমার প্রতি সালাম, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন মরব এবং যে দিন আমাকে জীবিত করে উঠানো হবে [১৯ নম্বর সূরা, ১৫ নম্বর আয়াত]।
১৯ নম্বর সূরা, ৩৪ নম্বর আয়াত: মারইয়াম-পুত্র ঈশার ঐ সমস্ত কথা সত্য। যে বিষয়ে তারা (১) সন্দেহ করছে।
(১) এখানে ‘তারা’ বলতে খ্রিস্টানদের কথা বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে ইয়াহূদীদের কথা। তারা ঈশা (আ.)-কে মারইয়াম (আ.)-এর অবৈধ সন্তান এবং তাকে ভন্ড নবী বলে মনে করে।
‘হও’ বললে হয়ে যায়, সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়া বোকামি
১৯ নম্বর সূরা, ৩৫ নম্বর আয়াত: আল্লাহর কাজ নয় যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন [১৯ নম্বর সূরা, ৯২ নম্বর আয়াত]। তিনি পবিত্র। যখন তিনি সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধুমাত্র এই বলে নির্দেশ দেন যে- “হও, আর তা হতে শুরু হয়ে যায়” [২ নম্বর সূরা, ১১৭ নম্বর আয়াত]।
‘আল্লাহ’ সম্পর্কে ঈশা (আ.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য
১৯ নম্বর সূরা, ৩৬ নম্বর আয়াত: আর (ঈশা আরও বলেছিলেন) “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রভু, তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর [৩ নম্বর সূরা, ৫১ নম্বর আয়াত; ৩ নম্বর সূরা, ৭৯ নম্বর আয়াত]। এটাই চূড়ান্ত সফলতার পথ” [১ নম্বর সূরা, ৫ নম্বর আয়াত]।
ইহুদী ও খ্রিস্টানরা বিভিন্ন দলে মত বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল
১৯ নম্বর সূরা, ৩৭ নম্বর আয়াত: অতঃপর তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদে [৩ নম্বর সূরা, ১০৩-১০৫ নম্বর আয়াত] লিপ্ত হলো। সুতরাং শাস্তি তাদের জন্য, যারা অস্বীকার করেছে মহাদিবসের সাক্ষাৎ (১)।
(১) ইহুদীরা পরকাল/পরবর্তী জীবন অস্বীকার করে, তাদের তাওরাতে পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যা বলা (৮৭ নম্বর সূরা, ১৭-১৯ নম্বর আয়াত) ছিল, সেই সমস্ত কিছু তারা তাওরাত থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
ইহুদী ও খ্রিস্টানরা বিচার দিবসে ঈশা (আ.)-এর কথা শুনবে, মানবেও
১৯ নম্বর সূরা, ৩৮ নম্বর আয়াত: (আজ না শুনলেও, না দেখলেও) সেদিন তারা স্পষ্টভাবে শুনবে, স্পষ্টভাবে দেখবে, যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে [৫ নম্বর সূরা, ১১৬-১১৭ নম্বর আয়াত]। সীমালঙ্ঘনকারীরা আজ রয়েছে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।
ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে ‘সতর্ক করতে’ বলা হচ্ছে
১৯ নম্বর সূরা, ৩৯ নম্বর আয়াত: আর আপনি তাদেরকে সতর্ক করে দিন ‘পরিতাপ দিবস’ সম্পর্কে। যখন সমস্ত বিষয়ের মীমাংসা হবে। এজন্য যে, তারা উদাসীন এবং তারা সত্য স্বীকার করছে না।
এই আয়াত প্রমাণ করে, নবী (সা.) বিশেষ কোনো জাতি/সম্প্রদায়ের নবী নন, তিনি ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরও নবী। এছাড়াও ২১ নম্বর সূরা, ১০৭ নম্বর আয়াত অনুযায়ী- নবী (সা.) মহাবিশ্বগুলোর জন্যও প্রেরিত নবী।
বিচার দিবস ‘কবে’ প্রতিষ্ঠিত হবে?
১৯ নম্বর সূরা, ৪০ নম্বর আয়াত: নিশ্চয়ই (সবশেষে) আমরাই হব গ্রহগুলোর ওয়ারিশ/মালিক, আর যা কিছু (১) আছে/থাকবে তাতে। আর আমাদের দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে [২১ নম্বর সূরা, ১০৪ নম্বর আয়াত; ৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত] আনা হবে [৪২ নম্বর সূরা, ২৯ নম্বর আয়াত]।
(১) যা বলতে? যেমন, আজ ‘শুক্র গ্রহ’ জীবন ধারণের অযোগ্য। আসলে একটা পর্যায়ে পৃথিবীও মানবজাতির চাহিদা মেটাতে মেটাতে জীবন ধারণের অযোগ্য হয়ে যাবে। অন্যান্য সমস্ত গ্রহগুলোরও হবে একই অবস্থা। তখন সেখানে যত মৃত মানব ও জিনের শরীরের পদার্থ থাকবে, তাদের মালিক আল্লাহ তাদেরকে সংকোচনের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের জন্য নিয়ে যাবেন, পুনরুত্থিত করবেন (৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত)।
প্রশ্ন হবে- মানুষ কি বিচার দিবস প্রতিষ্ঠার সময়কে আগে থেকে জানতে পারবে? হ্যাঁ পারবে, ৪৩ নম্বর সূরা, ৬১ নম্বর আয়াত দেখে নিন।
১৯ নম্বর সূরা, ৪১ নম্বর আয়াত: আর কিতাবে ইবরাহীমের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী।
মূর্তি সম্পর্কে পিতাকে ইবরাহীম (আ.) কঠিন প্রশ্ন করলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৪২ নম্বর আয়াত: (সুতরাং শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন তিনি তার পিতাকে বলেছিলেন- “হে পিতা, কেন ইবাদত/উপাসনা করছেন তার, যে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না এবং আপনার কোনো কাজে লাগে না/কাজে আসে না [৬ নম্বর সূরা, ৭৪ নম্বর আয়াত; ৩৭ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত]?”
ইবরাহীম (আ.) তার পিতাকে তার অনুসরণ করতে বললেন
১৯ নম্বর সূরা, ৪৩ নম্বর আয়াত: হে পিতা, নিশ্চয়ই আমার কাছে এসেছে জ্ঞান, যা আপনার কাছে আসেনি। সুতরাং আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে চূড়ান্ত পথ দেখাব।
১৯ নম্বর সূরা, ৪৪ নম্বর আয়াত: হে পিতা, শয়তানের উপাসনা করবেন না [২২ নম্বর সূরা, ৩ নম্বর আয়াত; ২২ নম্বর সূরা, ৮ নম্বর আয়াত]। নিশ্চয়ই শয়তান সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) হুকুম অস্বীকারকারী [২ নম্বর সূরা, ৩৪ নম্বর আয়াত]।
‘পিতা’ সম্পর্কে ইবরাহীম (আ.)-এর ভয়
১৯ নম্বর সূরা, ৪৫ নম্বর আয়াত: হে পিতা, নিশ্চয়ই আমি ভয় করছি যে, সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) শাস্তি আপনাকে স্পর্শ করবে। সুতরাং আপনি শয়তানের ওলী (বন্ধু) হবেন না।
ইবরাহীম (আ.)-কে হত্যার হুমকি ও ত্যাজ্যপুত্র করা
১৯ নম্বর সূরা, ৪৬ নম্বর আয়াত: (ইবরাহীমের পিতা) বলল- “তুমি কি আমাদের ঈশ্বর/দেবদেবীগুলো থেকে বিমুখ? হে ইবরাহীম, যদি তুমি (ইসলাম প্রচার থেকে) বিরত না হও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করে ফেলব। নয়ত আমাকে ছেড়ে চিরতরে চলে যাও।”
যখন ইবরাহীম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করলেন, তারপর ইবরাহীম (আ.) তার পিতার কাছে তথা বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইবরাহীম (আ.) তার পিতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। অর্থাৎ, ১৯ নম্বর সূরা, ৪২ নম্বর আয়াত থেকে যে বক্তব্য শুরু হয়েছে, তা অগ্নিকুণ্ড থেকে বের হয়ে তার পিতার কাছে যাওয়ার পর।
ইবরাহীম (আ.) তার ‘অমুসলিম’ পিতাকে সালাম দিলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৪৭ নম্বর আয়াত: (ইবরাহীম) বললেন- “সালামুন আলাইকা/আপনার উপর শাস্তি বর্ষিত হোক [২৫ নম্বর সূরা, ৬৩ নম্বর আয়াত]। আপনার জন্য ক্ষমা চাইব [৯ নম্বর সূরা, ১১৩-১১৪ নম্বর আয়াত]। নিশ্চয়ই আমার প্রভু আমার প্রতি দয়াপ্রবণ।”
অর্থাৎ অমুসলিমদেরকে সালাম দেওয়া যাবে। যদিও বহু কট্টর মুসলিম হাদীশের (মুসলিম, হাদীশ ২১৬৩-২১৬৭) দোহাই দিয়ে বলেন যে, “অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে না”। কিন্তু এখানে ইবরাহীম (আ.) তার অমুসলিম পিতাকে সালাম দিচ্ছেন। প্রশ্ন হবে- তাহলে ঐ হাদীশগুলোর কী হবে? কিছুই হবে না, উক্ত হাদীশের একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেই সময়ের ইহুদীরা মুসলিমদেরকে বলতেন- “আস সামু আলাইকুম” অর্থাৎ ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। তাই তার উত্তরে শুধু “ওয়া আলাইকুম” অর্থাৎ ‘বরং তোমাদের মৃত্যু হোক’ বলতে বলা হয়েছে। যেহেতু তাদেরকে সালাম দিলে, তারা মুসলিমদেরকে সালামের উত্তর দেওয়ার বদলে বদদুয়া করবে- এই আশঙ্কা ছিল, সেহেতু তাদেরকে প্রথমে সালাম দিতে নিষেধ করা হয়েছে। চাইলে হাদীশগুলো গিয়ে দেখে আসুন এবং আমার কথা মিলিয়ে নিন। তবে যদি কোনো অমুসলিম বলে- “আস সালামু আলাইকুম” অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অবশ্যই তার উত্তর দেওয়া যাবে/দিতে হবে যে, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম” অর্থাৎ ‘তোমাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক’।
পরিস্থিতি অনুকূল না হলে ‘হিজরতই’ বিকল্প
১৯ নম্বর সূরা, ৪৮ নম্বর আয়াত: আর আমি আপনাদেরকে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে [৪৬ নম্বর সূরা, ৫ নম্বর আয়াত] ডাকেন, তাদেরকে ত্যাগ (১) করছি। আমি আমার প্রতিপালককে ডাকব, আশা করছি যে, আমি আমার প্রতিপালককে ডেকে ব্যর্থ [১৯ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত] হব না [১৪ নম্বর সূরা, ৩৯-৪০ নম্বর আয়াত]।
(১) এটা হিজরত। আজও যদি ইসলাম পালনের বিপরীত পরিবেশ-পরিস্থিতি থাকে, তবে হিজরত করতে হবে। হোসেন কুরানীও নিজ গ্রাম, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন ত্যাগ করে অন্যত্র বসবাস করছেন। আসলে মুসলিম সমাজ গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে ভরে গিয়েছে, যা হোসেন কুরানী সহ্য করতে পারছিলেন না। এখন মুসলিম সমাজে ‘আসল ইসলাম’ পালন করা খুবই কঠিন।
হিজরত সর্বদা সুফল/কল্যাণ বয়ে আনে
১৯ নম্বর সূরা, ৪৯ নম্বর আয়াত: অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করত, তাদেরকে ত্যাগ করলেন, তখন আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকূব। আর প্রত্যেককে বানালাম নবী [১১ নম্বর সূরা, ৭১ নম্বর আয়াত; ২১ নম্বর সূরা, ৭২ নম্বর আয়াত; ২৯ নম্বর সূরা, ২৭ নম্বর আয়াত]।
হিজরত কল্যাণ বয়ে আনে- এই মর্মে কথা বলা হয়েছে ৪ নম্বর সূরা, ১০০ নম্বর আয়াতেও। হোসেন কুরানী পেয়েছেন প্রাচুর্য, হোসেন কুরানীকে আল্লাহ অঢেল ধনসম্পদ দিয়েছেন। এজন্য হোসেন কুরানী সর্বদা বলেন- “যে হিজরত করেনি, সে আল্লাহর দয়া দেখতে পায়নি”।
১৯ নম্বর সূরা, ৫০ নম্বর আয়াত: আর আমরা তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের রহমত/অনুগ্রহ দান করলাম। এবং আমরা তাদের সত্যবাদিতার জন্য ভাষাসমূহে সুখ্যাতি ও সমুচ্চ মর্যাদা দান করলাম।
মূসা (আ.) ছিলেন একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, রাসূল ও নবী
১৯ নম্বর সূরা, ৫১ নম্বর আয়াত: আর কিতাবে মূসার বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ/একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, ছিলেন রাসূল ও নবী।
আল্লাহ মূসা (আ.)-কে ডাকলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৫২ নম্বর আয়াত: আমরা তাকে তূরের ডানদিক থেকে ডেকেছিলাম [২০ নম্বর সূরা, ১১-২৪ নম্বর আয়াত]। তাকে আমরা কাছে টেনে নিয়েছিলাম অন্তরঙ্গ আলাপের জন্য।
মূসা (আ.)-এর অনুরোধে হারূন (আ.) নবী হলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৫৩ নম্বর আয়াত: আমরা আমাদের পক্ষ থেকে রহমত/দয়া স্বরূপ তার ভাই হারূনকে নবী [২০ নম্বর সূরা, ২৯-৩৬ নম্বর আয়াত] বানিয়ে দিলাম।
ইসমাঈল (আ.) ছিলেন সত্যবাদী, রাসূল ও নবী
১৯ নম্বর সূরা, ৫৪ নম্বর আয়াত: আর কিতাবে ইসমাঈলের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যবাদী, রাসূল ও নবী [৩৭ নম্বর সূরা, ১০১-১০৭ নম্বর আয়াত]।
ইসমাঈল (আ.) নির্দেশ দিতেন নামাজ ও যাকাতের
১৯ নম্বর সূরা, ৫৫ নম্বর আয়াত: এবং তিনি তার পরিবারকে নির্দেশ দিতেন সালাত/নামাজের ও যাকাত/ট্যাক্স আদায়ের। তিনি ছিলেন তার রব/প্রতিপালকের সন্তুষ্টির পাত্র।
ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো- ওহী। আর তা নামাজে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ বার শোনানো হয়, যা দ্বারা রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত হয়। আর দ্বিতীয় হলো- যাকাত বা ট্যাক্স, যা দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। এই দুই বিষয় ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের কল্পনা অসম্ভব।
ইদরীস (আ.)-এর মর্যাদা
১৯ নম্বর সূরা, ৫৬ নম্বর আয়াত: আর কিতাবে ইদরীসের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে [২১ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত]। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী।
১৯ নম্বর সূরা, ৫৭ নম্বর আয়াত: এবং আমরা তাকে অনেক উঁচুতে তুলে উচ্চতায় স্থান দিয়েছি।
নবী ও রাসূলদের স্বভাব কেমন ছিল?
১৯ নম্বর সূরা, ৫৮ নম্বর আয়াত: তারাই তারা, যাদের উপর আল্লাহ আদম-বংশধরদের মধ্যে নবী হিসেবে নিয়ামত/অনুগ্রহ দান করেছিলেন। যাদেরকে আমরা নূহের সঙ্গে আরোহণ করিয়েছিলাম। ইবরাহীম ও ইসরাঈল-বংশের মধ্যে যাদেরকে পথ দেখিয়েছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে দয়াময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং কেঁদে ফেলত [৩২ নম্বর সূরা, ১৫ নম্বর আয়াত; ১৭ নম্বর সূরা, ১০৭-১০৯ নম্বর আয়াত]।
❤️ সিজদাহর আয়াত ❤️
নামাজ ত্যাগকারীর পরিণতি: ধ্বংস, জাহান্নাম
১৯ নম্বর সূরা, ৫৯ নম্বর আয়াত: অতঃপর তাদের পর তাদের পরবর্তীরা তাদের স্থলে এল এবং সালাত/নামাজ ত্যাগ করল (১)। আর অনুসরণ শুরু করল নিজেদের মাথায় যা আসে, তা। সুতরাং শীঘ্রই তারা তাদের ধ্বংস দেখবে।
(১) নামাজ ত্যাগ বা বর্জন- এটা সাধারণ অবস্থা। তবে যদি কেউ নামাজ অস্বীকার করে এবং অস্বীকার করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে নিঃসন্দেহে সে কাফির (আবু দাউদ, হাদীশ ৪৬৭৮)।
তওবা ছাড়া নামাজ ত্যাগকারীর ঈমান ও আমল নষ্ট
১৯ নম্বর সূরা, ৬০ নম্বর আয়াত: তবে তারা নয়, যারা (নামাজ ত্যাগ থেকে) তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। তাহলেই তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে। তাদের প্রতি কোনো ধরণের অন্যায়-অবিচার করা হবে না।
১৯ নম্বর সূরা, ৬১ নম্বর আয়াত: সুদীর্ঘকালের জান্নাত। সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহ) তার বান্দাদেরকে যার ওয়াদা করেছেন অদৃশ্য (জিবরীলের) মাধ্যমে। নিশ্চয়ই তিনি যে ওয়াদা করেন, তা পূর্ণ হবেই [৩ নম্বর সূরা, ৯ নম্বর আয়াত]।
জান্নাতেও দিন-রাত, সকাল-সন্ধ্যা ঘটবে
১৯ নম্বর সূরা, ৬২ নম্বর আয়াত: সেখানে তারা সালাম (শান্তিপূর্ণ কথাবার্তা) ছাড়া শুনতে পাবে না কোনো ফালতু কথাবার্তা। আর তাদের জন্য ‘সকাল ও সন্ধ্যায়’ থাকবে রিজিক।
জান্নাতেও কি সকাল-সন্ধ্যা, রাত-দিন হবে? হ্যাঁ, হবে। কারণ, জান্নাত আমাদের মহাবিশ্বের মতোই ভিন্ন মহাবিশ্ব বা আমাদের বিপরীত মহাবিশ্ব। সেখানেও সৌরজগতের মতো নক্ষত্র ও তার গ্রহজগৎ থাকবে। দেখুন ৩৯ নম্বর সূরা, ৭৪ নম্বর আয়াত।
জাহান্নামীকে ‘জান্নাত’ দেখিয়ে যা বলা হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৬৩ নম্বর আয়াত: (জাহান্নামীদেরকে দেখিয়ে বলা হবে) ওটাই সেই জান্নাত [৮১ নম্বর সূরা, ১৩ নম্বর আয়াত], যার ওয়ারিশ হবে আমাদের তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী বান্দারা।
নবী (সা.) জিবরীল (আ.)-এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৬৪ নম্বর আয়াত: (হে জিবরীল বলে দিন) “আমরা আপনার প্রতিপালকের নির্দেশ [৬ নম্বর সূরা, ৬১ নম্বর আয়াত; ৬৬ নম্বর সূরা, ৬ নম্বর আয়াত] ছাড়া আসতে পারি না (১)। সবই তাঁর (আল্লাহর), আমাদের হাতের সামনে যা আছে, আমাদের পিছনে যা আছে, তার মাঝে যা আছে। আর আপনার প্রতিপালক কোনো কিছুই ভুলে [২০ নম্বর সূরা, ৫২ নম্বর আয়াত] যান না।”
(১) একবার নবী (সা.) খুব পেরেশানির মধ্যে ছিলেন, তিনি জিবরীল (আ.)-এর থেকে সান্ত্বনা পেতে চাইছিলেন। তারপর জিবরীল (আ.) এলে, তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- “আপনি আমার কাছে অধিক হারে আসতে পারেন না? কোন বিষয়টি আপনাকে আসতে বাধা দেয়?” তখন জিবরীল যা বলেছিলেন, তা আল্লাহ আয়াত হিসেবে নাযিল করেন (বুখারী, হাদীশ ৪৭৩১)।
আল্লাহর মতো গুণ ও বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কেউ নেই
১৯ নম্বর সূরা, ৬৫ নম্বর আয়াত: তিনি মহাবিশ্বের রব/মালিক এবং যা কিছু আছে মহাবিশ্বে, তারও। সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন। আর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করুন। আপনি কি তাঁর মতো [১৬ নম্বর সূরা, ৭৪ নম্বর আয়াত] গুণ ও বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন [৪২ নম্বর সূরা, ১১ নম্বর আয়াত] কাউকে জানেন [১১২ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত]?”
পুনরুত্থান সম্পর্কে মানুষের প্রশ্ন
১৯ নম্বর সূরা, ৬৬ নম্বর আয়াত: আর মানুষ কি বলে- “যখন আমি মরে যাব, তখন কি আবার আমাকে [৮৪ নম্বর সূরা, ১-৪ নম্বর আয়াত] বের করে জীবিত [৩৬ নম্বর সূরা, ৭৭-৭৯ নম্বর আয়াত] করা [৩৭ নম্বর সূরা, ১৬-১৮ নম্বর আয়াত; ১৭ নম্বর সূরা, ৫০-৫১ নম্বর আয়াত] হবে?”
আল্লাহর বাস্তবসম্মত জবাব
১৯ নম্বর সূরা, ৬৭ নম্বর আয়াত: মানুষ কি ভাবে না যে, ইতিপূর্বে আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি, যখন সে গুরুত্বপূর্ণ [৭৬ নম্বর সূরা, ১-২ নম্বর আয়াত] কিছুই ছিল না [৩২ নম্বর সূরা, ৭-৮ নম্বর আয়াত]?
মানুষ ও জিনদের ‘একত্রিত পিণ্ডে’ একত্রিত করা হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৬৮ নম্বর আয়াত: সুতরাং আপনার রব/প্রতিপালকের শপথ, অবশ্যই আমরা তাদেরকে একত্রিত করব এবং শয়তানদেরও [৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত]। তারপর আমরা তাদেরকে (একত্রিত পিণ্ডের) কেন্দ্রের (১) চারিদিকে নতজানু অবস্থায় হাজির করব।
(১) এখানে আরবি শব্দ ‘জাহান্নাম’। জাহান্নাম অর্থ গর্ত বা কেন্দ্রও হয়। প্রশ্ন হবে- কোন কেন্দ্রের চারিদিকে? মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে, মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে একত্রিত হবে। সমস্ত গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে একত্রিত হয়ে ‘একত্রিত পিণ্ড’ গঠন করবে, ১৯ নম্বর সূরা, ৭১ নম্বর আয়াত দেখুন। পরবর্তীতে ৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত দেখুন।
নবীদের উম্মত থেকে ‘সবচেয়ে অবাধ্য’কে আলাদা করা হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৬৯ নম্বর আয়াত: তারপর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক দল (১) হতে ছেঁটে বের করব- তাদের মধ্যে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) সবচেয়ে বেশি অবাধ্য কে ছিল।
(১) দল বলতে? এখানে আরবি শব্দ ‘শীয়া’। প্রত্যেক নবী-রাসূলের সঙ্গে তাদের উম্মতরা থাকবে। প্রত্যেক নবী-রাসূলের উম্মতকে এখানে শীয়া/দল বলা হয়েছে। আর শীয়া শব্দের অর্থই- ‘দল’। এই প্রসঙ্গে একটি হাদীশ রয়েছে- “কোনো কোনো নবী-রাসূলের উম্মত হবে ২-৪ জন, কোনো কোনো নবী-রাসূল উম্মতহীন” (মুসলিম, হাদীশ ২২০/১)।
১৯ নম্বর সূরা, ৭০ নম্বর আয়াত: তারপর আমরা ভাল জানি- তাদের মধ্যে যারা তাতে (জাহান্নামে) প্রবেশের যথাযোগ্য।
সবাইকে ‘একত্রিত পিণ্ড’ অতিক্রম করতেই হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৭১ নম্বর আয়াত: আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তা (একত্রিত পিণ্ড) অতিক্রম করবে না [৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত]। তা আপনার রব/প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।
একত্রিত পিণ্ড থেকে তাকওয়াধারীদের উদ্ধার করা হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৭২ নম্বর আয়াত: তারপর আমরা তাদেরকে [৫০ নম্বর সূরা, ৩১ নম্বর আয়াত] উদ্ধার করব, যারা ছিল তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী [২৬ নম্বর সূরা, ৯০ নম্বর আয়াত; ৮১ নম্বর সূরা, ১৩ নম্বর আয়াত]। আর উগ্রদের তাতেই (একত্রিত পিণ্ডেই) নতজানু অবস্থায় রেখে [৬৯ নম্বর সূরা, ১৬-১৭ নম্বর আয়াত] দেব।
কাফিরদের প্রশ্ন, খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১৯ নম্বর সূরা, ৭৩ নম্বর আয়াত: আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট/প্রমাণিত আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন কাফির/সত্য অস্বীকারকারীরা মুমিন/সত্য স্বীকারকারীদেরকে বলে- “দুই দলের (১) মধ্যে কোনটি উত্তম, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত” [২৮ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত]?
(১) দুই দল! দুই দল বলতে? মুমিন ও কাফির (৬৪ নম্বর সূরা, ২ নম্বর আয়াত)। অর্থাৎ তারা বলতে চায়- “আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কারা উত্তম এবং কারা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত?” অর্থাৎ, তারা বলতে চাইছেন- “আমরা উত্তম ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম মেনে তোমাদের কী লাভ হলো?”
আজও বহু অমুসলিম, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে থাকেন- “ইসলাম মেনে তোমাদের কী লাভ হলো? অথচ আমরা ইসলাম না মেনেও উত্তম ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।”
আল্লাহর জবাব — ইতিপূর্বে উন্নত সভ্যতা ছিল
১৯ নম্বর সূরা, ৭৪ নম্বর আয়াত: অথচ আমরা তাদের পূর্বে কতশত উন্নত [৩০ নম্বর সূরা, ৯ নম্বর আয়াত] মানবসভ্যতা [৩২ নম্বর সূরা, ২৬ নম্বর আয়াত] ধ্বংস করেছি, যারা ছিল তাদের (মাক্কাবাসীদের) চেয়ে সাজ-সরঞ্জাম ও বাহ্যিক দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ।
আল্লাহ বিভ্রান্তকেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন
১৯ নম্বর সূরা, ৭৫ নম্বর আয়াত: বলুন- যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে, সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহ) তাকে অবকাশ দেবেন [৩ নম্বর সূরা, ১৭৮ নম্বর আয়াত; ১৫ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত; ৬৩ নম্বর সূরা, ১০ নম্বর আয়াত], যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা তা দেখবে, যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছে। হয় শাস্তি, নয়ত সেই মুহূর্ত (কিয়ামত)। শীঘ্রই তারা জানতে [২৮ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত] পারবে- কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট, কে জনবলে [৯৪ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত; ২৮ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত] দুর্বল!
স্থায়ী সৎকর্ম করার জন্য উৎসাহ
১৯ নম্বর সূরা, ৭৬ নম্বর আয়াত: যারা সঠিক পথে চলে, আল্লাহ তাদের সঠিক পথে চলার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন [৪৭ নম্বর সূরা, ১৭ নম্বর আয়াত]। স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার প্রতিপালকের কাছে সওয়াব/প্রতিদান প্রাপ্তির জন্য উত্তম [১৮ নম্বর সূরা, ৪৬ নম্বর আয়াত] এবং প্রত্যাবর্তনের জন্যও উত্তম।
আমরা অনেক ক্ষেত্রেই আবেগের বশে সৎকর্ম করি, করতে চাই। কিন্তু আল্লাহ এমন সৎকর্ম করতে উৎসাহ দিচ্ছেন, যা ছোট হলেও নিয়মিত হতে পারে। এতে ছোট ছোট সৎকর্ম অনেক বড় হয়ে যাবে। আর বড় সৎকর্ম একবার আবেগে করে ফেললেও, তা হয়ত জীবনে মাত্র একবারই সম্ভব হবে।
মাক্কাহর একজন মুশরিক ইসলামকে ব্যঙ্গ করল
১৯ নম্বর সূরা, ৭৭ নম্বর আয়াত: আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে? সে বলে- “অবশ্যই আমাকে (মৃত্যুর পর) ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে (১)।”
(১) উক্ত আয়াত আস ইবনে ওয়াইল সম্পর্কে নাযিল হয়। “অবশ্যই আমাকে (মৃত্যুর পর) ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে”- এ কথা সে ব্যঙ্গ করে বলেছিল। প্রসঙ্গটি রয়েছে বুখারীতে। বলা হচ্ছে- “খাব্বাব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : জাহিলিয়াতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‘আস ইবনু ওয়াইলের’ কাছে কিছু পাওনা ছিল। আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল : যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দেব না। আমি বললাম : আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে অস্বীকার করব না।” সে বলল : আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীঘ্রই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব” (বুখারী, হাদীশ ২০৯১)। বলে রাখি- আস ইবনে ওয়াইল মাক্কাহর মুশরিক নেতাদের অন্যতম।
আল্লাহ প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাকে জবাব দিলেন
১৯ নম্বর সূরা, ৭৮ নম্বর আয়াত: সে কি গায়েবের [৭২ নম্বর সূরা, ২৬-২৭ নম্বর আয়াত] জ্ঞান রাখে? নাকি সে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) থেকে ওয়াদা নিয়েছে (যে তাকে মৃত্যুর পর ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে)?
১৯ নম্বর সূরা, ৭৯ নম্বর আয়াত: কখনও নয়। সে যা বলেছে, আমরা তা [৫০ নম্বর সূরা, ১৬-১৮ নম্বর আয়াত] লিখে রাখছি [৮২ নম্বর সূরা, ১০-১২ নম্বর আয়াত]। আর আমরা তার শাস্তি বৃদ্ধি করতেই [১৬ নম্বর সূরা, ৮৮ নম্বর আয়াত] থাকব [৪ নম্বর সূরা, ৫৬ নম্বর আয়াত]।
১৯ নম্বর সূরা, ৮০ নম্বর আয়াত: সে যা (১) বলছে, তার অধিকারী আমরা। সে আমাদের কাছে আসবে একা [১৯ নম্বর সূরা, ৯৫ নম্বর আয়াত; ২৬ নম্বর সূরা, ৮৮ নম্বর আয়াত]।
(১) অর্থাৎ গায়েবের জ্ঞান ‘তার’ নেই। ঐ জ্ঞান আছে আল্লাহর কাছে। যা তিনি তাঁর মনোনীত রাসূলদের জানিয়ে থাকেন।
মানুষ কেন ‘মিথ্যা ঈশ্বর’ গ্রহণ করে?
১৯ নম্বর সূরা, ৮১ নম্বর আয়াত: আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে গ্রহণ করেছে (মানবরূপী) ঈশ্বর [৩৪ নম্বর সূরা, ২২ নম্বর আয়াত]সমূহ। যেন তারা তাদের সাহায্যকারী হয়।
বিচার দিবসে মানুষের তৈরি ঈশ্বরগুলো যা করবে
১৯ নম্বর সূরা, ৮২ নম্বর আয়াত: কখনও নয়। শীঘ্রই তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে [২৫ নম্বর সূরা, ১৭-১৮ নম্বর আয়াত]। আর তারা হবে তাদের দাবির [১৬ নম্বর সূরা, ৮৬ নম্বর আয়াত] বিরোধী [৪৬ নম্বর সূরা, ৬ নম্বর আয়াত]।
মিথ্যা ঈশ্বর বলতে? ঈশা (আ.)-এর মতো। যারা নিজেকে/নিজেদেরকে কখনও ‘ঈশ্বর’ বলে দাবি করেননি, তাদের অনুসারীরা তাদেরকে ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেছে। দেখুন ৩ নম্বর সূরা, ৭৯-৮০ নম্বর আয়াত; ৫ নম্বর সূরা, ১১৬-১১৭ নম্বর আয়াত।
কাদের প্রতি শয়তানদের ‘প্রেরণ’ করা হয়?
১৯ নম্বর সূরা, ৮৩ নম্বর আয়াত: আপনি কি লক্ষ্য/বিবেচনা করেননি যে, আমরা শয়তানদেরকে সত্য অস্বীকারকারীদের প্রতি প্রেরণ [৪৩ নম্বর সূরা, ৩৬ নম্বর আয়াত; ৭ নম্বর সূরা, ২৭ নম্বর আয়াত] করি, যেন তারা তাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে [১৪ নম্বর সূরা, ২২ নম্বর আয়াত; ৫০ নম্বর সূরা, ২৭ নম্বর আয়াত]।
ইসলামবিরোধীদের জন্য তাড়াহুড়ো না করা
১৯ নম্বর সূরা, ৮৪ নম্বর আয়াত: সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো [১৫ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত; ১৯ নম্বর সূরা, ৭৫ নম্বর আয়াত] করবেন না। মূলত আমরা তাদের জন্য (অবকাশের) কাল গণনা [১৫ নম্বর সূরা, ৫ নম্বর আয়াত; ৬৩ নম্বর সূরা, ১১ নম্বর আয়াত] করে রেখেছি।
মুত্তাকীদের পরিণতি, তারা হবেন আল্লাহর অতিথি
১৯ নম্বর সূরা, ৮৫ নম্বর আয়াত: সেদিন আমরা মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী)দেরকে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) কাছে অতিথি হিসেবে একত্রিত [৬৯ নম্বর সূরা, ১৬ নম্বর আয়াত] করব।
অপরাধীদের পরিণতি
১৯ নম্বর সূরা, ৮৬ নম্বর আয়াত: আর অপরাধীদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব তৃষ্ণার্ত [৫০ নম্বর সূরা, ২৪-২৬ নম্বর আয়াত] অবস্থায়।
বিচার দিবসে শাফায়াত গ্রহণ করা হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৮৭ নম্বর আয়াত: তারা (কেউই) শাফায়াত [৩৪ নম্বর সূরা, ২২ নম্বর আয়াত] করতে সক্ষম হবে না। তবে যে/যিনি সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) থেকে ওয়াদা পেয়েছেন (১), তার ব্যাপারটা ভিন্ন [২০ নম্বর সূরা, ১০৯ নম্বর আয়াত; ২১ নম্বর সূরা, ২৮ নম্বর আয়াত; ৩৪ নম্বর সূরা, ২৩ নম্বর আয়াত]।
(১) আর নবী (সা.) আল্লাহর থেকে এই ওয়াদা পেয়েছেন। যদিও হাদীশ অস্বীকারকারীগণ নবী (সা.)-এর শাফায়াত অস্বীকার করেন। এই আয়াতে আল্লাহ তাদেরকে জবাব দিয়ে রেখেছেন। বিচার শুরুর জন্য নবী (সা.) শাফায়াত করবেন (বুখারী, হাদীশ ৪৭১২)। পরে সাধারণ মুমিন এবং মুসলিমও শাফায়াত করবেন (মুসলিম, হাদীশ ১৮৩)।
এখন তারা বলতে পারেন- “হাদীশের দলিল গ্রহণযোগ্য নয়”। কুরআন মানবেন তো! ছোট একটা কাজ করুন, ৪৩ নম্বর সূরা, ৮৬ নম্বর আয়াতে যান। বলা হচ্ছে- সাধারণ মুমিন মুসলিমও শাফায়াত করতে পারবেন। সাধারণ মুমিন মুসলিমও শাফায়াত করতে পারলে, নবী-রাসূলগণ পারবেন না? বোকা!
আল্লাহর প্রতি ‘সন্তান’ আরোপ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে?
- ১৯ নম্বর সূরা, ৮৮ নম্বর আয়াত: আর তারা বলে- “দয়াময় সন্তান/পুত্র গ্রহণ করেছেন” [৩৭ নম্বর সূরা, ১৫২-১৫৪ নম্বর আয়াত]।
- ১৯ নম্বর সূরা, ৮৯ নম্বর আয়াত: অবশ্যই তোমরা জোগাড় করেছ নোংরা/জঘন্য কথা।
- ১৯ নম্বর সূরা, ৯০ নম্বর আয়াত: এ কারণে গ্যালাক্সিগুলো কক্ষচ্যুত হয়ে যাওয়ার, পৃথিবী দুভাগে বিভক্ত এবং ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার এবং পাহাড়-পর্বতসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়।
‘সন্তান’ গ্রহণ আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়
১৯ নম্বর সূরা, ৯১ নম্বর আয়াত: তারা দয়াময়ের জন্য সন্তান/পুত্র [৬ নম্বর সূরা, ১০১ নম্বর আয়াত; ৭২ নম্বর সূরা, ৩ নম্বর আয়াত] দাবি করছে [৩৯ নম্বর সূরা, ৪ নম্বর আয়াত]।
১৯ নম্বর সূরা, ৯২ নম্বর আয়াত: আর তা সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি সন্তান/পুত্র গ্রহণ [১৯ নম্বর সূরা, ৩৫ নম্বর আয়াত] করবেন [২ নম্বর সূরা, ১১৬-১১৭ নম্বর আয়াত]।
মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই আল্লাহর ‘বান্দা’
১৯ নম্বর সূরা, ৯৩ নম্বর আয়াত: যা কিছু রয়েছে মহাবিশ্বে- কোনো কিছুই তাঁর ‘বান্দা’ ছাড়া ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হবে না।
১৯ নম্বর সূরা, ৯৪ নম্বর আয়াত: অবশ্যই তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে ঘিরে [৮৫ নম্বর সূরা, ২০ নম্বর আয়াত; ৬ নম্বর সূরা, ৮০ নম্বর আয়াত] রেখেছেন [২০ নম্বর সূরা, ১১০ নম্বর আয়াত; ৪০ নম্বর সূরা, ৭ নম্বর আয়াত], তাদের সংখ্যাও গণনা করে রেখেছেন।
বিচার দিবসে সবাই ‘একাকী’ উপস্থিত হবে
১৯ নম্বর সূরা, ৯৫ নম্বর আয়াত: আর তারা সবাই তাঁর কাছে (১) কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে একাকী [১৯ নম্বর সূরা, ৮০ নম্বর আয়াত; ২৬ নম্বর সূরা, ৮৮ নম্বর আয়াত]।
(১) আজ হয়ত তারা ‘দলবল’ নিয়ে যাতায়াত করে, কিন্তু বিচারে একা উপস্থিত হতে হবে। অর্থাৎ দলবলের দম ইহজীবনে থাকলেও তা মূল্যহীন।
সাহাবা (রা.)-দের জন্য ‘বিশেষ’ ভবিষ্যৎ বাণী
১৯ নম্বর সূরা, ৯৬ নম্বর আয়াত: নিশ্চয়ই যারা সত্য স্বীকার করেছে এবং সৎকর্ম করছে, শীঘ্রই আল্লাহ (মানুষের মনে) তাদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি (১) করে দেবেন।
(১) অর্থাৎ আজ যাদেরকে (সাহাবাগণকে) মক্কার ওলি-গলিতে অপমান করা হচ্ছে, গালাগালি করা হচ্ছে, শীঘ্রই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আর হয়েছিল ঠিক তাই। আজ মানুষ তাদেরকে গালাগালি করা তো দূরের কথা, তাদের নাম উচ্চারণ হলে দোয়া করে।
কুরআনের অন্যতম কাজ: সুসংবাদ দেওয়া ও সতর্ক করা
১৯ নম্বর সূরা, ৯৭ নম্বর আয়াত: মূলত আমরা তা (কুরআন) সহজ করে দিয়েছি [৫৪ নম্বর সূরা, ১৭ নম্বর আয়াত] আপনার ভাষায় [১২ নম্বর সূরা, ২ নম্বর আয়াত]। যেন আপনি তা দিয়ে মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী)দের সুসংবাদ দিতে পারেন। আর আপনি তা দিয়ে এমন সম্প্রদায়কে সতর্ক [৮৮ নম্বর সূরা, ২১ নম্বর আয়াত] করতে পারেন, যারা তর্কাতর্কি করে।
মাক্কাবাসীদের ‘সুন্দর কায়দায়’ সতর্ক করা হলো
১৯ নম্বর সূরা, ৯৮ নম্বর আয়াত: এবং আমরা তাদের পূর্বে কত শত মানবসভ্যতা ধ্বংস করে দিয়েছি [১৯ নম্বর সূরা, ৭৪ নম্বর আয়াত; ৩২ নম্বর সূরা, ২৬ নম্বর আয়াত]। আপনি কি তাদের মধ্যেকার কাউকে ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করতে পারেন? অথবা শুনতে পান তাদের কোনো ক্ষীণ (১) শব্দও!
(১) একথা বলার অর্থ হলো- মক্কার মানুষজন যে আজ এত চেঁচামেচি করে, ধ্বংস হওয়ার পর তাদের ক্ষীণ শব্দও শুনতে পাওয়া যাবে না।
Your comment will appear immediately after submission.