ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড 2026 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ 15 ম্যাচ | West Indies vs England 2026 T20 World Cup 15 Match

Published: by Cricket Arif
✅ Expert-Approved Content

১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার: মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-এর ১৫ নম্বর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। শেরফান রাদারফোর্ডের অপরাজিত ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডের সামনে ১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য রাখে, যা জবাবে ইংল্যান্ড ১৯ ওভারে মাত্র ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড টস

সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে টস করতে নামেন উভয় দলের অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক কয়েন ছোড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ ডাকেন হেড। কয়েন পড়ে টেল। ফলে টসে জিতে যান হ্যারি ব্রুক এবং প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথম ইনিংস: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ও ইংল্যান্ডের বোলিং

প্রথম ইনিংস: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং

সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ শুরু হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটিতে নামেন ব্র্যান্ডন কিং ও অধিনায়ক শাই হোপ। ইংল্যান্ডের হয়ে জফ্রা আর্চার প্রথম ওভার বোলিং করতে আসেন। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে শাই হোপ আর্চারের বলে টম ব্যান্টনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩ বলে ০ রান করে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ব্র্যান্ডন কিং স্যাম কারেনের বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩ বলে ১ রান করে আউট হন।

এরপর সিমরন হেটমায়ের কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৫ ওভার ৫ বলে গিয়ে জেমি ওভার্টনের বলে স্যাম কারেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরে যান। ১২ বলে ২৩ রানের ইনিংসে তিনি দুইটি ছক্কা ও দুইটি চার মারেন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৫৫ রান।

পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন শেরফান রাদারফোর্ড। উল্টো প্রান্তে ৯ ওভার ৩ বলে রোস্টান চেস আদিল রশিদের বলে এলবিডব্লিউ হন। ২৯ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে তিনি ছয়টি চার মারেন। এরপর পাঁচ নম্বর উইকেটে গড়ে ওঠে ৫১ রানের জুটি। ১৪ ওভার ২ বলে রোভম্যান পাওয়েল ১৩ বলে ১৪ রান করে আউট হন। অপর প্রান্তে শেরফান রাদারফোর্ড ১৫ ওভার ২ বলে ছয় মেরে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ২৯ বলে ৫৩ রানে পৌঁছান তিনি। ১৭ ওভার ৪ বলে রাদারফোর্ড ৫৬ রানে থাকতে আদিল রশিদের বলে একটি ক্যাচ তুলেছিলেন, যা রশিদ নিজেই ড্রপ করেন।

ছয় নম্বর উইকেটে জেসন হোল্ডারের সঙ্গে রাদারফোর্ড গড়েন ৬১ রানের জুটি। ১৯ ওভার ৪ বলে জেমি ওভার্টনের বলে জেসন হোল্ডার আউট হন। চারটি ছক্কা ও একটি চারে তিনি ১৭ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও উপহার দেন। শেষ বলে ছক্কা মেরে শেরফান রাদারফোর্ড অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৭৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল সাতটি ছক্কা ও দুইটি চার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৯৬ রান।

প্রথম ইনিংস: ইংল্যান্ডের বোলিং

ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে আদিল রশিদ ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২টি এবং জেমি ওভার্টন ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। জফ্রা আর্চার ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ১টি এবং স্যাম কারেন ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট পান। লিয়াম ডসন ৩ ওভারে ২৭ রান দিলেও উইকেটশূন্য থাকেন।

  • অতিরিক্ত রান: ১০ ওয়াইড, ৪ লেগ বাই
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং স্কোর: ১৯৬ রান/৬ উইকেট/২০ ওভার

দ্বিতীয় ইনিংস: ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং

দ্বিতীয় ইনিংস: ইংল্যান্ডের ব্যাটিং

১৯৭ রানের জবাবে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটিতে নামেন ফিল সল্ট ও জস বাটলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন জেসন হোল্ডার। ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বিস্ফোরক। ফিল সল্ট হোল্ডারের দ্বিতীয় ওভারেই ২৪ রান তুলে নেন, যেখানে ছিল দুইটি ছক্কা ও তিনটি চার। কিন্তু ৩.২ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ১৪ বলে ৩০ রান করে আউট হন ফিল সল্ট।

চতুর্থ ওভারে জস বাটলার ও জ্যাকব বেথেল স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। তবে ৬.৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন জালে আটকান ইংল্যান্ড। রস্টন চেসের বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে বসেন জস বাটলার। তিনি ১৪ বলে ২১ রান করেন। এরপর টম ব্যান্টন মাত্র ২ রান করে আকিয়াল হোসেনের শিকার হন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ইংল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৬১ রান।

এরপরই গুডাকেশ মোতির তোপের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। মোতি প্রথমে জ্যাকব বেথেলকে ২৩ বলে ৩৩ রানে বোল্ড করেন এবং পরের ওভারেই অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১৪ বলে ১৭ রান করে তার বলেই ক্যাচ তুলে দেন। এক প্রান্তে আগলে রেখে খেলতে থাকেন স্যাম কারেন।

পতন অব্যাহত থাকে। উইল জ্যাকস ৩ বলে ২ রান করে রস্টন চেসের বলে এলবিডব্লিউ হন। জেমি ওভার্টন ৬ বলে ৫ রান এবং জফ্রা আর্চার ৪ বলে ৬ রান করে রানআউট ও থ্রোর মাধ্যমে বিদায় নেন। লিয়াম ডসন ১ বলে ১ রান ও আদিল রশিদ ১ বলে ০ রান করে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরলে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৯ ওভারে মাত্র ১৬৬ রানে। স্যাম কারেন অপরাজিত ছিলেন ৩০ বলে ৪৩ রানের লড়াকু ইনিংসে, যাতে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

দ্বিতীয় ইনিংস: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ে স্পিনাররাই ছিলেন জয়ের মূল কারিগর। গুডাকেশ মোতি ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। রস্টন চেস ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া আকিয়াল হোসেন, রোমারিও শেফার্ড এবং শামার জোসেফ একটি করে উইকেট নেন। ইংল্যান্ডের ১০ উইকেটের মধ্যে ৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা, বাকি ৪টির মধ্যে ২টি ছিল রানআউট।

  • অতিরিক্ত রান: ৫ ওয়াইড, ১ লেগ বাই
  • ইংল্যান্ডের ব্যাটিং স্কোর: ১৬৬ রান/১০ উইকেট/১৯ ওভার
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়: ৩০ রানের জয়।

ম্যাচের ফলাফল ও সারসংক্ষেপ (FAQ)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কত রানের জয় হয়েছে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানের জয় হয়েছে।

এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড কে পেয়েছেন?

এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় শেরফান রাদারফোর্ড, তার অপরাজিত ৭৬* রানের দুর্দান্ত ইনিংস-এর জন্য তিনি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড পান।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি উইকেট কোন বলার নিয়েছে?

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বলার গুডাকেশ মোতি তার ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান কে বানিয়েছে?

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান বানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেরফান রাদারফোর্ড, তিনি ৭৬* রানের একটি অপরাজিত দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তাদের পরবর্তী ম্যাচ কার বিরুদ্ধে খেলবে এবং কবে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তাদের পরবর্তী ম্যাচ নেপালের বিরুদ্ধে খেলবে এবং ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার সন্ধ্যা সকাল ১১টা সময় ম্যাচ শুরু হবে।

ইংল্যান্ডের তাদের পরবর্তী ম্যাচ কার বিরুদ্ধে খেলবে এবং কবে?

ইংল্যান্ডের তাদের পরবর্তী ম্যাচ স্কটল্যান্ড বিরুদ্ধে খেলবে এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শনিবার দুপুর ৩টা সময় ম্যাচ শুরু হবে।

1 Year MEMBER
Cricket Arif– Cricket News & Analysis Writer I’m Cricket Arif, a passionate cricket content writer on Najibul.com . I provide reliable match updates, in-depth player analyses, and engaging cricket stories for readers who truly love...

Recommended for You

Your comment will appear immediately after submission.

Leave a Comment