ভারতের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক চাকরি হাতের মুঠোয়, বিলাসবহুল জীবন নিশ্চিত। আর মাত্র ২৪ বছর বয়সী এক যুবক সেই চাকরির নিয়োগপত্র ছুড়ে ফেলে দিলেন। কারণ তিনি যে সরকারের কাছে শপথ নিতে যাচ্ছিলেন, সেই সরকারকেই তিনি দেশের শত্রু বলে মনে করতেন। এই একটি সিদ্ধান্তেই বোঝা যায় সুভাষচন্দ্র বসু কেমন মানুষ ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন, ব্রিটিশ নজরবন্দি থেকে পালিয়ে দেশ ছেড়েছেন, বিদেশে সেনাবাহিনী গড়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন স্বাধীন ভারত সরকারের। আর তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় আজও রহস্যে ঢাকা। এই লেখায় নেতাজির সম্পূর্ণ জীবন, তাঁর অবদান, বিতর্ক ও মৃত্যু-রহস্য নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা হলো।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | সুভাষচন্দ্র বসু |
| জনপ্রিয় উপাধি | নেতাজি |
| জন্ম | ২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭ |
| জন্মস্থান | কটক, ওড়িশা (তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশ) |
| মৃত্যু | ১৮ আগস্ট ১৯৪৫ (সরকারিভাবে স্বীকৃত তারিখ), তাইহোকু (বর্তমান তাইপেই), তাইওয়ান |
| পিতা-মাতা | জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবী |
| পরিবার | চৌদ্দ ভাইবোনের মধ্যে নবম সন্তান |
| স্ত্রী | এমিলি শেঙ্কল |
| কন্যা | অনিতা বসু ফাফ |
| প্রধান পদ | কংগ্রেস সভাপতি (১৯৩৮–৩৯), ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা, আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক |
| বিখ্যাত স্লোগান | জয় হিন্দ, দিল্লি চলো |
জন্ম ও শৈশব
কটকের বসু পরিবার
সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জানকীনাথ বসু ছিলেন সফল আইনজীবী ও সরকারি উকিল, মা প্রভাবতী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণ গৃহিণী। চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে সুভাষ ছিলেন নবম। সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও তাঁর মনে ছোটবেলা থেকেই ছিল প্রশ্ন ও অস্থিরতা।
স্কুলজীবন ও আধ্যাত্মিক খোঁজ
কটকের র্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। কিশোর বয়সেই স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের চিন্তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। শৃঙ্খলা, দেশসেবা ও আত্মত্যাগের আদর্শ এই সময়েই তাঁর মনে গেঁথে যায়।
শিক্ষাজীবন: প্রেসিডেন্সি থেকে কেমব্রিজ
কলকাতায় ও প্রেসিডেন্সি কলেজের ঘটনা
স্কুলের পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৬ সালে এক ইংরেজ অধ্যাপকের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় তিনি কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি পান।
কেমব্রিজ ও আইসিএস পরীক্ষা
বাবার ইচ্ছায় তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং কেমব্রিজের ফিটজউইলিয়াম হলে পড়াশোনা করেন। ১৯২০ সালে তিনি ভারতীয় সিভিল সার্ভিস বা আইসিএস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। তখন একজন ভারতীয়ের জন্য এ ছিল অসাধারণ সাফল্য।
আইসিএস ত্যাগের সিদ্ধান্ত
কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি করা তাঁর বিবেকে বাধল। ১৯২১ সালে তিনি আইসিএস থেকে পদত্যাগ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময়ের সামাজিক মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত ছিল অবিশ্বাস্য।
রাজনীতিতে প্রবেশ: চিত্তরঞ্জন দাশের ছায়ায়
ভারতে ফিরে সুভাষ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সান্নিধ্যে আসেন। ১৯২১ সালে তিনি স্বরাজ্য দলের পত্রিকা “ফরওয়ার্ড”-এর সম্পাদনায় যুক্ত হন। ১৯২৩ সালে নির্বাচিত হন সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি ও বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সম্পাদক। ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।
বারবার কারাবাস
ব্রিটিশ সরকার সুভাষকে বিপজ্জনক মনে করত। ১৯২৫ সালে তাঁকে মান্দালয় কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তাঁর স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি ঘটে। এরপরও বহুবার তিনি গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হয়েছেন। ১৯৩৩ সালের দিকে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ইউরোপে গিয়ে ভিয়েনায় চিকিৎসা নেন।
কংগ্রেস সভাপতি সুভাষচন্দ্র
হরিপুরা অধিবেশন (১৯৩৮)
১৯৩৮ সালে সুভাষ হরিপুরা অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। জওহরলাল নেহরুর পরে তিনি এই দায়িত্ব নেন। এ সময় গান্ধীজির প্রাথমিক সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন।
ত্রিপুরী অধিবেশন ও মতভেদ
কিন্তু আদর্শগত ফারাক ক্রমে স্পষ্ট হয়। সুভাষ মনে করতেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এখনই আরও জোরালো আন্দোলন দরকার। গান্ধীজি ও কংগ্রেসের মূলধারার নেতারা সে পথে একমত ছিলেন না। ১৯৩৯ সালের ত্রিপুরী অধিবেশনের আগে সুভাষ আবার প্রার্থী হন এবং গান্ধীজির সমর্থিত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে জয়ী হন। কিন্তু কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে তীব্র বিরোধের মধ্যে ১৯৩৯ সালের এপ্রিলের শেষে তিনি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন রাজেন্দ্র প্রসাদ।
ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা
১৯৩৯ সালে সুভাষ কংগ্রেসের ভেতরে বামপন্থী শক্তিকে একত্র করতে সর্বভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন। একই বছর আগস্টে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মহাপলায়ন (১৯৪১)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার সুভাষকে কলকাতার বাড়িতে নজরবন্দি করে। ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে তিনি ছদ্মবেশে সেখান থেকে পালিয়ে যান। কলকাতা থেকে পেশোয়ার ও কাবুল হয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পথে ইউরোপ পৌঁছান। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই ঘটনা “মহানিষ্ক্রমণ” বা “গ্রেট এসকেপ” নামে পরিচিত।
জার্মানিতে: ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার
১৯৪১ সালে বার্লিনে সুভাষ ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকে তিনি রেডিওতে ভারতীয়দের উদ্দেশে ব্রিটিশ-বিরোধী প্রচার চালাতেন। জার্মানিতে ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে গঠিত হয় “ইন্ডিয়ান লিজিয়ন”। এই সময়েই তাঁকে “নেতাজি” সম্বোধন করা শুরু হয়।
অক্ষশক্তি জার্মানি ও জাপানের সাহায্য নেওয়া নিয়ে সুভাষের সমালোচনা আছে। সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য। সমর্থকদের যুক্তি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শত্রুর সঙ্গে কৌশলগত জোট ছিল স্বাধীনতার একমাত্র বাস্তব সুযোগ। এ ধরনের জোট তাঁর আদর্শিক সমর্থন বোঝায় না, ঐতিহাসিকদের একাংশের এমনই ব্যাখ্যা।
সাবমেরিনে পূর্ব এশিয়া যাত্রা
১৯৪৩ সালে সুভাষ জার্মান ও জাপানি সাবমেরিনে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছান। যুদ্ধের সময় মাঝসমুদ্রে এক সাবমেরিন থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি সুমাত্রা হয়ে সিঙ্গাপুরে যান।
আজাদ হিন্দ ফৌজ ও অস্থায়ী সরকার
ফৌজের পটভূমি
আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির প্রথম রূপ ১৯৪২ সালে সিঙ্গাপুরে গঠিত হয়েছিল। এর পেছনে ছিলেন মোহন সিং ও জাপানি কর্মকর্তা ইওয়াইচি ফুজিওয়ারা। অর্থাৎ সুভাষ ফৌজের মূল প্রতিষ্ঠাতা নন। তিনি ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে এর নেতৃত্ব গ্রহণ করে একে নতুন করে সংগঠিত করেন এবং এতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন।
সিঙ্গাপুরে নেতৃত্ব গ্রহণ
১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগের নেতৃত্ব নেন সুভাষ এবং পরদিন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নাম বদলে আজাদ হিন্দ ফৌজ রাখেন।
স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার
১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে তিনি আজাদ হিন্দ সরকার বা স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার ঘোষণা করেন। সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও সর্বাধিনায়ক ছিলেন তিনি নিজেই। জাপান ও অক্ষ শক্তির কয়েকটি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
রানি ঝাঁসি রেজিমেন্ট
ফৌজের নারী শাখা রানি ঝাঁসি রেজিমেন্ট গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সাহগল। সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের এই অংশগ্রহণ সে সময়ের জন্য ছিল যুগান্তকারী।
“দিল্লি চলো” অভিযান
১৯৪৪ সালে ফৌজ বার্মা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে। ১৯৪৪ সালের মার্চে তারা ভারতভূমিতে পা রাখে এবং মণিপুরের মইরাঙে স্বাধীন ভারতের পতাকা ওড়ায়। কিন্তু বর্ষা, রসদের সংকট এবং মিত্রপক্ষের আকাশ-শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অভিযান ব্যর্থ হয়। ১৯৪৫ সালের মে পর্যন্ত বার্মায় ফৌজ পশ্চাদপসরণ করে যুদ্ধ চালায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ও জার্মানির পরাজয়ের ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান থেমে যায়।
“আমাকে রক্ত দাও”
নেতাজির সবচেয়ে বিখ্যাত আহ্বানটি এসেছিল ১৯৪৪ সালে বার্মায় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায়: “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” এই বাক্য আজও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকী স্লোগান।
মৃত্যু ও রহস্য
সরকারিভাবে স্বীকৃত ঘটনা
বহু সূত্র অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট সুভাষচন্দ্র একটি জাপানি বোমারু বিমানে সায়গন থেকে টোকিওর পথে রওনা হন। তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে টেকঅফের সময় বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। গুরুতর পুড়ে গিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় সামরিক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। ২২ আগস্ট তাইহোকুতে তাঁর দেহ দাহ করা হয় এবং চিতাভস্ম টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত আছে।
প্রশ্ন ও তদন্ত
এই বিবরণ নিয়ে ভারতে আজও প্রশ্ন আছে। ১৯৫৬ সালের শাহনওয়াজ কমিটি ও ১৯৭৪ সালের খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। কিন্তু ১৯৯৯ সালে গঠিত মুখার্জি কমিশন ২০০৬ সালে জানায়, তাঁর মৃত্যু ওই বিমান দুর্ঘটনায় হয়নি বলে তারা মনে করে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষের তথ্য, যে ওই তারিখে তাইপেইয়ে কোনো বিমান দুর্ঘটনার নথি নেই। তবে ভারত সরকার এই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ঐতিহাসিক ও জনমতের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে। বহু ইতিহাসবিদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য বিবরণ মনে করেন, আর কিছু মানুষ ও গবেষক বিকল্প তত্ত্ব বিশ্বাস করেন। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো তত্ত্বকেই চূড়ান্ত সত্য বলা যায় না।
ব্যক্তিগত জীবন
সুভাষ অস্ট্রিয়ার এমিলি শেঙ্কলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যিনি তাঁর ইংরেজি বইয়ের টাইপিস্ট ও সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান আছে, অনিতা বসু ফাফ, যিনি জার্মানিতে বসবাস করেন এবং একজন অর্থনীতিবিদ। সুভাষের জীবনের এই দিকটি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে কমই আলোচিত হয়েছে।
রাজনৈতিক চিন্তা ও আদর্শ
জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক সমতা
সুভাষ ছিলেন তীব্র জাতীয়তাবাদী, তবে সংকীর্ণ ধর্মীয় বা আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। আজাদ হিন্দ ফৌজে হিন্দু, মুসলমান, শিখসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়েছেন, এবং “জয় হিন্দ” স্লোগান ছিল সম্মিলিত সম্বোধন। সমাজতান্ত্রিক চিন্তাও তাঁর ভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল।
অহিংসা বনাম সশস্ত্র সংগ্রাম
গান্ধীজির অহিংসা নীতির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও সুভাষের বিশ্বাস ছিল, কেবল অহিংস পথে স্বাধীনতা আসবে না, প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামও করতে হবে। দুজনের মধ্যে আদর্শিক মতভেদ ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্মানের সম্পর্ক ছিল। বলা হয়, সুভাষ-ই প্রথম গান্ধীজিকে “জাতির পিতা” বলে সম্বোধন করেন।
মূল্যায়নে মতভেদ
সুভাষের মূল্যায়ন নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত আছে। তাঁর অনুরাগীরা তাঁকে সবচেয়ে আপসহীন স্বাধীনতা সংগ্রামী মনে করেন, যাঁর সশস্ত্র উদ্যোগ ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলেছিল। আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দিদের ১৯৪৫–৪৬ সালে দিল্লির লালকেল্লায় বিচারের ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এসব ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের অবসানকে ত্বরান্বিত করার পেছনে একটি ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে কিছু গবেষক মনে করেন, ভারতের স্বাধীনতার পেছনে বহু কারণ ছিল এবং এককভাবে কোনো একটি ঘটনাকে নির্ণায়ক বলা কঠিন। আবার অক্ষশক্তির সঙ্গে জোট নিয়ে সমালোচনার কথাও আগে বলা হয়েছে।
স্মরণ ও উত্তরাধিকার
পরাক্রম দিবস
২০২১ সাল থেকে ভারত সরকার প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনকে “পরাক্রম দিবস” হিসেবে পালন করে।
নামকরণ ও স্মৃতিসৌধ
ভারতে তাঁর নামে অসংখ্য রাস্তা, বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্মৃতিসৌধ আছে। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তার একটি উদাহরণ। ভারতের বাইরেও তাঁর স্মৃতি রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ আছে।
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নেতাজি
বইয়ে, চলচ্চিত্রে ও গবেষণায় নেতাজির জীবন বারবার ফিরে আসে। বিশেষ করে বাংলায় তিনি শুধু একজন নেতা নন, তিনি আবেগের নাম।
উপসংহার
সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর সময়ের সবচেয়ে সাহসী ও আপসহীন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একজন। নিশ্চিত ক্যারিয়ার ত্যাগ করা, কংগ্রেসের মূলধারার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, নজরবন্দি থেকে পালিয়ে মহাদেশ পাড়ি দেওয়া এবং বিদেশের মাটিতে একটি সেনাবাহিনী ও অস্থায়ী সরকার গড়ে তোলার মতো সিদ্ধান্ত খুব কম মানুষই নিতে পারেন। তাঁর পথ ও কৌশল নিয়ে বিতর্ক আছে, মৃত্যুর রহস্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তা নিয়ে সংশয়ের জায়গা নেই। নেতাজি তাই শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি আজও সাহসের প্রতীক।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে ছিলেন?
সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা, যিনি নেতাজি নামে পরিচিত। তিনি কংগ্রেসের সভাপতি, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন অবসানের চেষ্টার জন্য তিনি সুপরিচিত।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম কোথায় এবং কবে?
সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন। তখন কটক ছিল ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের অংশ। তাঁর জন্মদিন প্রতি বছর পরাক্রম দিবস হিসেবে পালিত হয়।
সুভাষচন্দ্র বসুর বাবা-মা ও পরিবার কেমন ছিল?
তাঁর বাবা জানকীনাথ বসু ছিলেন কটকের সফল আইনজীবী ও সরকারি উকিল, আর মা প্রভাবতী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণ গৃহিণী। চৌদ্দ ভাইবোনের মধ্যে সুভাষ ছিলেন নবম সন্তান। পরিবারটি ছিল সচ্ছল ও শিক্ষিত।
সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?
তিনি কটকের র্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে পড়েন, তারপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৬ সালে এক ইংরেজ অধ্যাপকের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় তিনি সেখান থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক হয়ে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে পড়তে যান।
সুভাষচন্দ্র বসু কবে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
সুভাষচন্দ্র বসু ১৯২০ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস বা আইসিএস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। অনেক জায়গায় ভুলভাবে ১৯১৯ সাল লেখা হয়। ১৯২১ সালে তিনি এই চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।
সুভাষচন্দ্র বসু আইসিএস থেকে পদত্যাগ করলেন কেন?
ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি করা তাঁর বিবেকের বিরুদ্ধে ছিল, কারণ তিনি সেই শাসনকেই দেশের শত্রু বলে মনে করতেন। ১৯২১ সালে তিনি পদত্যাগ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। তখনকার সামাজিক মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সাহসী।
কেন সুভাষচন্দ্র বসুকে নেতাজি বলা হয়?
নেতাজি শব্দের অর্থ সম্মানিত নেতা। সুভাষচন্দ্রের সাহসী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগের জন্য অনুসারীরা তাঁকে এই উপাধি দেন। জার্মানিতে অবস্থানকালে তাঁর সহযোগী ও ভারতীয় সৈনিকদের মাধ্যমে এই সম্বোধনের প্রচলন হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
সুভাষচন্দ্র বসু কবে কংগ্রেসের সভাপতি হন?
তিনি ১৯৩৮ সালে হরিপুরা অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী অধিবেশনের আগে তিনি আবার নির্বাচনে জয়ী হন, কিন্তু মতভেদের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করেন।
ত্রিপুরী অধিবেশনে কী ঘটেছিল?
১৯৩৯ সালে সুভাষ গান্ধীজির সমর্থিত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে জয়ী হন। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়, এবং ওই বছরের এপ্রিলের শেষে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন রাজেন্দ্র প্রসাদ।
গান্ধীজির সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের মতভেদ কী নিয়ে ছিল?
মূল মতভেদ ছিল আন্দোলনের পথ ও সময় নিয়ে। সুভাষ মনে করতেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরও জোরালো ও প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রাম দরকার, আর গান্ধীজি অহিংস পথে অটল ছিলেন। আদর্শগত এই ফারাক সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল।
ফরওয়ার্ড ব্লক কী এবং কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৩৯ সালে কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়ার পর সুভাষ কংগ্রেসের ভেতরে বামপন্থী শক্তিকে একত্র করতে সর্বভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন। একই বছর আগস্টে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফরওয়ার্ড ব্লক পরে আলাদা রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ চালিয়ে যায়।
সুভাষচন্দ্র বসু কীভাবে নজরবন্দি থেকে পালিয়েছিলেন?
১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে তিনি ছদ্মবেশে কলকাতার বাড়ির নজরবন্দি অবস্থা থেকে পালিয়ে যান। কলকাতা থেকে পেশোয়ার ও কাবুল হয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পথে ইউরোপে পৌঁছান। ইতিহাসে এই ঘটনা মহানিষ্ক্রমণ বা গ্রেট এসকেপ নামে পরিচিত।
জার্মানিতে সুভাষচন্দ্র বসু কী করেছিলেন?
১৯৪১ সালের নভেম্বরে তিনি বার্লিনে ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন এবং রেডিওর মাধ্যমে ব্রিটিশ-বিরোধী প্রচার চালান। জার্মানিতে ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে গঠিত হয় ইন্ডিয়ান লিজিয়ন। এই সময়েই তিনি নেতাজি নামে সম্বোধিত হতে শুরু করেন।
অক্ষশক্তির সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে সুভাষচন্দ্রের সমালোচনা কেন হয়?
জার্মানি ও জাপানের মতো ফ্যাসিবাদী শক্তির সাহায্য নেওয়াকে কিছু সমালোচক নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন। সমর্থকদের যুক্তি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শত্রুর সঙ্গে এই জোট ছিল স্বাধীনতার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ, আদর্শিক সমর্থন নয়। বিষয়টি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত আছে।
আজাদ হিন্দ ফৌজ কী এবং এটি কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার জন্য গঠিত সশস্ত্র বাহিনী। এর প্রথম রূপ ১৯৪২ সালে সিঙ্গাপুরে মোহন সিং ও জাপানি কর্মকর্তা ইওয়াইচি ফুজিওয়ারার উদ্যোগে গঠিত হয়। ১৯৪৩ সালে নেতৃত্ব নিয়ে সুভাষচন্দ্র একে নতুন করে সংগঠিত করেন।
সুভাষচন্দ্র বসু কি আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা?
আক্ষরিক অর্থে নন। প্রথম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ১৯৪২ সালে মোহন সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয়। সুভাষ ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ নামে একে পুনর্গঠিত করে সর্বাধিনায়ক হন, তাই তিনি এর সবচেয়ে পরিচিত নেতা।
আজাদ হিন্দ সরকার কবে ঘোষিত হয়?
১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে সুভাষচন্দ্র স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার বা আজাদ হিন্দ সরকার ঘোষণা করেন। এতে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও সর্বাধিনায়ক ছিলেন তিনি নিজে। জাপান ও কয়েকটি অক্ষশক্তি-সংশ্লিষ্ট দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
রানি ঝাঁসি রেজিমেন্ট কী?
রানি ঝাঁসি রেজিমেন্ট ছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী সেনা শাখা, যার নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সাহগল। সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের এমন সরাসরি অংশগ্রহণ সে সময়ের জন্য ছিল যুগান্তকারী।
দিল্লি চলো অভিযান কী এবং কেন ব্যর্থ হয়?
১৯৪৪ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজ বার্মা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে এবং মণিপুরের মইরাঙে স্বাধীন ভারতের পতাকা ওড়ায়। কিন্তু বর্ষা, রসদের সংকট এবং মিত্রপক্ষের আকাশ-শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অভিযান ব্যর্থ হয়। জাপান ও জার্মানির পরাজয়ের ফলে ফৌজকে পিছু হটতে হয়।
সুভাষচন্দ্র বসুর জনপ্রিয় উক্তি কী ছিল?
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। এটি তিনি ১৯৪৪ সালে বার্মায় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলেছিলেন। দিল্লি চলো এবং জয় হিন্দ স্লোগানও তাঁর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান কী?
তিনি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেছেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ ও অস্থায়ী সরকারের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের উদ্যোগ নিয়েছেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দিদের ১৯৪৫–৪৬ সালে লালকেল্লায় বিচারের ঘটনা সারা দেশে ক্ষোভ ছড়ায়, যা অনেক ঐতিহাসিকের মতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানকে ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।
সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক আদর্শ কী ছিল?
তিনি জাতীয়তাবাদী ছিলেন, তবে সংকীর্ণ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতেন না। আজাদ হিন্দ ফৌজে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়েছেন। সমাজতান্ত্রিক চিন্তার প্রভাব তাঁর ভাবনায় ছিল, আর তিনি মনে করতেন কেবল অহিংস পথে স্বাধীনতা অর্জন কঠিন, প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামও দরকার।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
বহু সূত্র অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে একটি জাপানি বিমান টেকঅফের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। গুরুতর পুড়ে গিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে ভারতে আজও বিতর্ক ও প্রশ্ন আছে।
সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু নিয়ে কোন কোন তদন্ত হয়েছে?
১৯৫৬ সালের শাহনওয়াজ কমিটি ও ১৯৭৪ সালের খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ১৯৯৯ সালে গঠিত মুখার্জি কমিশন ২০০৬ সালে জানায়, তাদের মতে ওই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়নি। ভারত সরকার মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি।
নেতাজির চিতাভস্ম কোথায় সংরক্ষিত আছে?
প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের ২২ আগস্ট তাইহোকুতে তাঁর দেহ দাহ করা হয় এবং চিতাভস্ম জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত আছে। এটি নিয়েও ভারতে মতভেদ রয়েছে, কারণ কেউ কেউ এই চিতাভস্মের পরিচয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
সুভাষচন্দ্র বসুর স্ত্রী ও সন্তান কারা?
সুভাষচন্দ্রের স্ত্রী ছিলেন অস্ট্রিয়ার এমিলি শেঙ্কল, যিনি তাঁর ইংরেজি বইয়ের টাইপিস্ট ও সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা অনিতা বসু ফাফ, যিনি জার্মানিতে বসবাস করেন এবং একজন অর্থনীতিবিদ।
সুভাষচন্দ্র বসু কি কলকাতার মেয়র ছিলেন?
হ্যাঁ, ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯২১ সালে তিনি স্বরাজ্য দলের পত্রিকা ফরওয়ার্ডের সম্পাদনায় যুক্ত হন এবং ১৯২৩ সালে সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন।
পরাক্রম দিবস কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন পরাক্রম দিবস হিসেবে পালিত হয়। ২০২১ সাল থেকে ভারত সরকার এই দিবস পালন শুরু করে। পরাক্রম অর্থ সাহস ও বীরত্ব।
নেতাজির স্মৃতিরক্ষায় কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ভারতে তাঁর নামে বহু রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্মৃতিসৌধ ও মূর্তি আছে। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাঁর নামেই। ভারতের বাইরেও তাঁর স্মৃতি রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার ও লালকেল্লা মামলা কী?
যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশ সরকার আজাদ হিন্দ ফৌজের কয়েকজন অফিসারকে ১৯৪৫–৪৬ সালে দিল্লির লালকেল্লায় বিচারের মুখোমুখি করে। এ ঘটনা সারা ভারতে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আবেগ সৃষ্টি করে। অনেক ঐতিহাসিকের মতে এটি ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে আরও দুর্বল করেছিল।
Your comment will appear immediately after submission.