ক্রিকেট খেলাটি পরিচালিত হয় বিশ্ববিখ্যাত মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC) বা এমসিসি-র তৈরি করা আইনের মাধ্যমে। এমসিসি-র ৪২টি আইনের মধ্যে ২০ নম্বর আইনটি হলো ‘ডেড বল’ নিয়ে। তবে কিছু পরিস্থিতি এমন থাকে যেখানে আমরা মনে করি বলটি বাতিল বা ডেড হবে, কিন্তু আসলে খেলা সচল থাকে।
১. বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন ‘ডেড বল’ হয়:
এমসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আম্পায়ার বলটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন:
- ১.১ মাঠে রাখা হেলমেটে বল লাগলে: ফিল্ডারদের বাড়তি হেলমেট যদি মাঠের ভেতরে থাকে এবং বল তাতে আঘাত করে, তবে সাথে সাথে বলটি ডেড বল হয়ে যায়। এই ভুলের কারণে বোলিং টিম ৫ রান পেনাল্টি পায় এবং এই ৫ রান ব্যাটিং টিমের টোটালে যোগ করা হয়।
- ১.২ স্পাইডার ক্যাম বা ড্রোনে বল লাগলে: আধুনিক ক্রিকেটে আকাশে থাকা ক্যামেরা বা ড্রোনে যদি বলের আঘাত লাগে, তবে আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল বলবেন। এই বলে কোনো রান বা আউট হবে না, বোলারকে পুনরায় বল করতে হবে।
- ১.৩ ব্যাটসম্যানের পোশাকে বল আটকে গেলে: বল যদি ব্যাটসম্যানের প্যাড, জার্সি বা হেলমেটের ভেতরে এমনভাবে আটকে যায় যে তা আর মাটিতে পড়ছে না, তবে আম্পায়ার বলটিকে ডেড বল ঘোষণা করেন।
- ১.৪ বোলার হাত থেকে বল ফেলে দিলে: বল করার দৌড় বা অ্যাকশনের সময় যদি বোলারের হাত থেকে বল ফসকে নিজের পায়ের কাছে পড়ে যায়, তবে সেটি ডেড বল।
- ১.৫ অন্যায্য ফিল্ডিং নড়াচড়া (Deliberate Distraction): বোলার বল ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোনো ফিল্ডার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নড়াচড়া করে বা ব্যাটসম্যানের মনসংযোগ নষ্ট করে, তবে আম্পায়ার সেই বলটিকে ডেড বল করেন এবং বোলিং টিম ৫ রান পেনাল্টি পায় যা ব্যাটিং টিমের স্কোরে যুক্ত হয়।
- ১.৬ ব্যাটসম্যান প্রস্তুত না থাকলে: বোলার বল ছোঁড়ার সময় ব্যাটসম্যান যদি যৌক্তিক কারণে সরে দাঁড়ান, তবে সেই বলটি ডেড বল হিসেবে গণ্য হবে।
২. যেসব ক্ষেত্রে ‘ডেড বল’ হবে না (সচল থাকবে):
কিছু পরিস্থিতি দেখে মনে হতে পারে বলটি হয়তো বাতিল, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী খেলা সচল থাকে:
- ২.১ আম্পায়ারের গায়ে বল লাগলে: বল যদি আম্পায়ারের গায়ে লেগে ছিটকে যায় (এবং কোথাও আটকে না যায়), তবে বলটি ডেড বল হয় না। খেলা সচল থাকে এবং ব্যাটসম্যান রান নিতে পারেন।
- ২.২ নো-বল বা ওয়াইড হলে: আম্পায়ার সিগন্যাল দেওয়ার সাথে সাথে বল ডেড বল হয় না। ওই বলে ব্যাটসম্যান রান নিতে পারেন এবং ফিল্ডাররা তাকে রান আউট করার সুযোগ পান।
- ২.৩ উইকেটে বল লেগে বেল না পড়লে: অনেক সময় বল সজোরে স্টাম্পে লাগে কিন্তু বেল পড়ে না। এক্ষেত্রে বলটি সচল থাকে, ব্যাটসম্যান চাইলে রান নিতে পারেন।
উপসংহার ও রান আউটের বিশেষ সতর্কতা
ক্রিকেটের এই ২০ নম্বর আইন বা ‘ডেড বল’ নিয়মটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটসম্যান মনে করেন বলটি বোলার বা কিপারের হাতে যাওয়ার পর ‘ডেড বল’ হয়ে গেছে এবং তিনি অসতর্কভাবে ক্রিজের বাইরে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী, যতক্ষণ না বলটি ফিল্ডিং টিমের কাছে পুরোপুরি স্থির হচ্ছে এবং আম্পায়ার নিশ্চিত হচ্ছেন যে খেলা সেই মুহূর্তের জন্য শেষ হয়েছে, ততক্ষণ বল সচল থাকে। এই সময়ে কিপার যদি স্টাম্প ভেঙে দেন, তবে ব্যাটসম্যান রান আউট বা স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফিরবেন।
মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC) এই নিয়মটি এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে মাঠে ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনো দলের জন্য অন্যায্য সুবিধার কারণ না হয়। একজন সচেতন ক্রিকেট প্রেমী বা খেলোয়াড় হিসেবে এই বিষয়গুলো জানা জরুরি, কারণ একটি সঠিক সময়ে হওয়া ‘ডেড বল’ বা পেনাল্টি রান পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে বলটি কখন ‘লাইভ’ থাকে আর কখন ‘ডেড’, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়ি মনোভাব বা ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Your comment will appear immediately after submission.