কুরআনের দীর্ঘতম সূরা কোনটি?

प्रकाशित: द्वारा Farhat Khan
✅ Expert-Approved Content

পবিত্র কুরআনের দীর্ঘতম সূরা হলো সূরা আল-বাকারাহ (সূরা নং ২)। এই সূরায় মোট ২৮৬টি আয়াত এবং এটি প্রায় ২৫ পারা (জুজ) জুড়ে বিস্তৃত। মদিনায় অবতীর্ণ এই সূরায় ঈমান, ইসলামী আইন, মুসলিম সমাজের নির্দেশনা ও কিসসাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

সূরা আল-বাকারাহ সম্পর্কে বিস্তারিত:

  • (১) আয়াত সংখ্যা: ২৮৬ (বিভিন্ন কেরাতে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সর্বাধিক স্বীকৃত সংখ্যা ২৮৬)
  • (২) অবতরণকাল: মাদানী (হিজরতের পর প্রথম দিকে নাযিল হয়)
  • (৩) সূরার মূল বিষয়বস্তু: ঈমান ও তাওহিদ, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ, জিহাদ, বিবাহ ও তালাক, সুদ (রিবা), অঙ্গীকার, বনী ইসরাঈলের ইতিহাস, ইব্রাহিম (আ.) ও কাবার নির্মাণ, কিসসা, মানবাধিকার ইত্যাদি।
  • (৪) সূরায় বিখ্যাত আয়াতসমূহ: আয়াতুল কুরসি (২:২৫৫), ঋণের লেখার নির্দেশ (২:২৮২), “লা ইকরাহা ফিদ্দীন” (ধর্মে জবরদস্তি নেই – ২:২৫৬), ইত্যাদি।
  • (৫) এই সূরার ফজিলত: হাদিসে বর্ণিত – “সূরা বাকারাহ পাঠ করো, কারণ তা গ্রহণ করা বরকত ও তা পরিত্যাগ করা ক্ষতি” (মুসলিম)। শয়তান যে ঘর থেকে এই সূরা পাঠ করা হয় সেখানে প্রবেশ করে না (বুখারি, মুসলিম)।

কুরআনের দলিল

প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াত হিসেবে সূরা আল-বাকারাহর গুরুত্বপূর্ণ আয়াতগুলোর কয়েকটি হলো:

  • আয়াতুল কুরসি (২:২৫৫): আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের বর্ণনা।
  • কিসসা-ই-আদম ও ইবলিস (২:৩০-৩৯): সৃষ্টির সূচনা ও ইবলিসের অহংকারের ঘটনা।
  • ইব্রাহিম (আ.)-এর পরীক্ষা (২:১২৪): “আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিমকে তাঁর রব কয়েকটি বাণী দিয়ে পরীক্ষা করলেন…”
  • কিবলা পরিবর্তনের আয়াত (২:১৪৪), ঋণের দলিলের নির্দেশ (২:২৮২) ইত্যাদি।

হাদিসের দলিল

  • রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “প্রত্যেক বস্তুর জন্য একটি শীর্ষ রয়েছে, আর কুরআনের শীর্ষ হলো সূরা আল-বাকারাহ।” (তিরমিজি)
  • “তোমরা সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করো, কেননা তা গ্রহণ করা বরকত এবং তা ত্যাগ করা পরিতাপের কারণ।” (মুসলিম)
  • “যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করা হয়, শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করে না।” (বুখারি ও মুসলিম)
  • সাহাবায়ে কেরাম সূরা বাকারাহ শেখা ও শেখানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন; এমনকি উমর (রা.) সাহাবিদের এটি শিক্ষা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।

আলেমদের মতামত

প্রখ্যাত মুফাসসিরগণের মতে:

  • ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেছেন, সূরা আল-বাকারাহ কুরআনের মূলনীতিগুলোর সারসংকলন।
  • ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর মতে এ সূরায় ঈমান, ইবাদত ও মুআমালাতের পূর্ণাঙ্গ বিধান বিদ্যমান।
  • সাইয়েদ কুতুব (রহ.) এ সূরাকে ঈমানি বিপ্লবের পূর্ণাঙ্গ পটভূমি হিসেবে দেখেছেন।
  • মাওলানা মাওদুদি (রহ.)-এর মতে এটি ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা।
    সকল তাফসিরবিদ একমত যে, সূরা বাকারাহর তাফসির বুঝলে কুরআনের মূল ভাবনা বোঝা সহজ হয়।

সাধারণ ভুল ধারণা

  • “সূরা বাকারাহ শুধু আইন-কানুনের সূরা”: এটি ভুল ধারণা। সূরাটিতে ঈমান, ইতিহাস, উপদেশ, কিয়ামত ও ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির মতো বিষয়ও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
  • “খুব দীর্ঘ, তাই পড়া কঠিন”: অনেকে ভাবেন সূরা বাকারাহ খুব বড় বলে পড়া অসম্ভব। কিন্তু ভেঙে ভেঙে, অল্প অল্প করে নিয়মিত তিলাওয়াত করাই বরকত ও নিরাপত্তার মাধ্যম, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

সম্পর্কিত প্রশ্ন

কুরআনের সংক্ষিপ্ততম সূরা কোনটি?

কুরআনের সংক্ষিপ্ততম সূরা হলো সূরা আল-কাওসার (সূরা নং ১০৮)। এতে মাত্র ৩টি আয়াত রয়েছে।

কুরআনের প্রথম ও শেষ সূরা কোনটি?

প্রথম সূরা সূরা আল-ফাতিহা (সূরা নং ১), শেষ সূরা সূরা আন-নাস (সূরা নং ১১৪)।

পবিত্র কুরআনে মোট কতটি সূরা আছে?

কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা আছে। এর মধ্যে ৮৬টি মাক্কী ও ২৮টি মাদানী সূরা হিসেবে প্রসিদ্ধ।

আয়াতুল কুরসি কোন সূরার অংশ?

আয়াতুল কুরসি হলো সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এটি কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আয়াত।

সূরা বাকারাহর শেষ দুই আয়াতের নাম কী?

“আমানার রাসুলু…” (২:২৮৫-২৮৬) নামে পরিচিত এই দুই আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাতে এই দুই আয়াত তিলাওয়াত করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

উপসংহার

সূরা আল-বাকারাহ কুরআনের দীর্ঘতম সূরা এবং ইসলামি জীবনবিধানের মৌলিক ভিত্তি। এতে বিশ্বাস, ইবাদত, লেনদেন, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটেছে। এর তিলাওয়াত ঘরে বরকত আনে এবং শয়তানকে দূরে রাখে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও ভেঙে ভেঙে এ সূরার চর্চা অব্যাহত রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

1 साल सदस्य
फरहात खान एक समर्पित इस्लामी लेखक और शोधकर्ता हैं, जो मुख्य रूप से उलूमुल कुरान (तफसीर), हदीस और शुद्ध अकीदा पर काम करते हैं। प्रामाणिक इस्लामी ज्ञान को सही स्रोतों के साथ सरल भाषा में...

Your comment will appear immediately after submission.

Leave a Comment